ওঙ্কার ডেস্ক : চন্দ্রবাবু নায়ডু। ভারতে কৃষিপ্রধান রাজনীতির মধ্যে যিনি প্রথম থেকেই প্রযুক্তিকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে অন্ধ্রে হাইটেক সিটির নির্মাণই তাঁকে চিনিয়ে দিয়েছিল ভিন্নধারার ব্যক্তিত্বে। দু দশকের বেশি সময় পরে ২০২৫ সালে এসে আরও একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। চন্দ্রবাবু নায়ডুর হাত ধরে গুগল সে রাজ্যের বিশাখাপত্তনমে বিনিয়োগ করতে চলেছে ১,৩৩,১৭০ কোটি টাকা। লক্ষ্য এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা। বলাই বাহুল্য গুগলের এই বিনিয়োগের ফলে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি অন্ধপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম হয়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডেটা সেন্টার।
মঙ্গলবার গুগল ক্লাউডের সিইও টমাস কুরিয়েন জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এটিই গুগলের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ যে অন্ধ্রপ্রদেশে হতে চলেছে তা আগাম টের পাননি অনেকেই। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই বিনিয়োগ টানতে পারেননি। সে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হোন বা মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সবাইকে চমকে দিয়ে মঙ্গলবার নিজের রাজ্যে এই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ টেনে নিয়ে গেলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পিছনে রয়েছে চন্দ্রবাবু নায়ডুর দুরদর্শিতা। কেন্দ্রের মোদী সরকার টিকে রয়েছেন নায়ডুর দলের সাংসদদের সমর্থন নিয়ে। সেই সমর্থনের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে যে নিজের রাজ্যের জন্য ‘কিছু’ আদায় করবেন, সেই সম্ভাবনা ছিলই। এখন সুযোগ সামনে আসায় তা কাজে লাগালেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রপ্রদেশে ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল চন্দ্রবাবুর টিডিপি। সেই সময় বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার চন্দ্রবাবুর উপর নির্ভরশীল ছিল। সে সময়ও অন্ধ্রের জন্য তিনি পাওনা আদায় করে নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে মাইক্রোসফট নায়ডুর রাজ্যে খুলেছিল তাদের বৃহত্তম ভারতীয় ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। ২০০৩ সাল থেকে হায়দরাবাদে শুরু হয় আন্তর্জাতিক আইটি সম্মেলন। ক্রমে এই শহর হয়ে ওঠে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেক হাব। রাজ্যের অগ্রগতির স্বার্থে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের কাছ থেকে যে পাওনা আদায় করে নিয়েছেন, তাতে তাঁকে হিরোর আসনে বসাচ্ছেন অনেকে।
