দুর্গাপুজোর আনন্দ, উৎসবের আবহ আর বাঙালির মিষ্টিমুখ—এই তিনটি যেন একে অপরের পরিপূরক। বিজয়া দশমী মানেই মনখারাপের সুরের মাঝে প্রিয়জনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রণাম, কোলাকুলি আর মিষ্টিমুখ। আর সেই মিষ্টিমুখের আয়োজনে যদি থাকে ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপুলি ও নারকোল ছাপ সন্দেশ, তাহলে উৎসবের আনন্দ হয়ে ওঠে আরও মধুর। আজ রইল দশমীর স্পেশাল এই দুই বাঙালি মিষ্টি তৈরির সহজ রেসিপি।
১. দশমীর স্পেশাল চন্দ্রপুলি
উপকরণ:
নারকেল কোরা ২ কাপ
খেজুর গুড় বা চিনি ১ কাপ
দুধ ১/২ কাপ
এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা-চামচ
ঘি ১ চা-চামচ
প্রয়োজনে সামান্য ক্ষীর
প্রণালী:
প্রথমে একটি কড়াইয়ে কোরা নারকেল, দুধ ও খেজুর গুড় দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন, যাতে মিশ্রণটি কড়াইয়ের গা ছেড়ে আসে। এবার এলাচ গুঁড়ো ও সামান্য ঘি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন। পুরটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।
এবার চন্দ্রপুলির ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে নারকেলের পুর ভরে ভালোভাবে চেপে দিন। ছাঁচ খুলে সাবধানে মিষ্টিগুলি বের করে নিন। ছাঁচ না থাকলে হাত দিয়েও অর্ধচন্দ্রাকৃতি তৈরি করতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু চন্দ্রপুলি।
২. নারকোল ছাপ সন্দেশ
উপকরণ:
ছানা ২৫০ গ্রাম
নারকেল কোরা ১ কাপ
গুঁড়ো চিনি ১/২ কাপ
এলাচ গুঁড়ো ১/৪ চা-চামচ
ঘি সামান্য
প্রণালী:
প্রথমে তাজা ছানা ভালোভাবে মেখে মসৃণ করে নিন। একটি কড়াইয়ে ছানা, নারকেল কোরা ও গুঁড়ো চিনি দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে হালকা জমাট বাঁধতে শুরু করলে এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, বেশি সময় রান্না করলে সন্দেশ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
এবার মিশ্রণটি নামিয়ে সামান্য ঠান্ডা করুন। ছোট ছোট ভাগ করে পছন্দমতো গোল বা চ্যাপ্টা আকৃতি দিন। ওপরে অল্প নারকেল কোরা ছড়িয়ে সাজিয়ে নিলেই তৈরি নারকোল ছাপ সন্দেশ।
দশমীর মিষ্টিমুখ হোক আরও মধুর। বিজয়া দশমীর এই দুই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বাড়িতে তৈরি করে পরিবেশন করুন পরিবার ও বন্ধুদের। ঘরোয়া উপকরণে তৈরি এই মিষ্টিগুলিতে যেমন রয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া, তেমনই রয়েছে উৎসবের ভালোবাসা। প্রিয়জনদের সঙ্গে মিষ্টিমুখ করে সকলকে জানান শুভ বিজয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
শুভ বিজয়া! মিষ্টি হোক সম্পর্ক, মধুর হোক আগামীর প্রতিটি দিন।