খুশকি চুলের একটি সাধারণ সমস্যা। শীতকালে খুশকির সমস্যা বাড়লেও বছরের অন্য সময়েও অনেকের মাথার ত্বকে সাদা গুঁড়োর মতো খুশকি দেখা যায়। এর ফলে মাথার ত্বকে চুলকানি, অস্বস্তি এবং চুলের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে খুশকির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। জেনে নিন খুশকি দূর করার কয়েকটি ঘরোয়া উপায়।
১. নারকেল তেলের ব্যবহার
নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। মাথার ত্বক শুষ্ক হলে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খুশকির কারণ যদি ছত্রাকের অতিরিক্ত বৃদ্ধি হয়, সে ক্ষেত্রে তেল লাগালে সমস্যা বাড়তেও পারে। তাই মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে বা তেল ব্যবহারে খুশকি বেড়ে গেলে এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলুন।
২. অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকের অস্বস্তি ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পরিষ্কার অ্যালোভেরা জেল অল্প পরিমাণে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন। জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৩. নিয়মিত শ্যাম্পু করা
খুশকি নিয়ন্ত্রণে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। চুলের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করুন। খুশকি বেশি হলে কিটোকোনাজল, সেলেনিয়াম সালফাইড বা জিঙ্ক পাইরিথিয়নযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু উপকারী হতে পারে। প্যাকেটের নির্দেশ মেনে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৪. লেবুর রস ব্যবহারে সতর্কতা
অনেকে খুশকি দূর করতে লেবুর রস ব্যবহার করেন। কিন্তু লেবুর রস অ্যাসিডিক হওয়ায় মাথার ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই সরাসরি মাথার ত্বকে লেবুর রস লাগানো এড়িয়ে চলাই ভালো।
৫. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
চিরুনি, তোয়ালে ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। মাথার ত্বকে নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিন।
খুশকি পুরোপুরি দূর করার জন্য শুধু ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে সঠিক চুলের যত্ন এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।