নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু রবিবারই সেই আবেদন খারিজ করে দিলেন প্রধান বিচারপতি।
সূত্রের খবর, বিরোধীদের চিঠির জবাবে চারটি স্পষ্ট যুক্তি দিয়ে দেখা না করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিচারপতি কান্ত।
প্রথমত, তিনি জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা ও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা সংক্রান্ত যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলছেন, সেই বিষয়ে মামলা ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। তাই আদালতের বাইরে এই নিয়ে কোনও আলোচনা করা যায় না।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
তৃতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেছেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা-সহ অন্যান্য ধারায় আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। সোমবার যদি এই বিষয়ে কোনও আবেদন করা হয়, তাহলে পরের শুনানির দিনেই তা গ্রহণ করা হবে।
চতুর্থত, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতার কথাও চিঠিতে লিখেছেন প্রধান বিচারপতি। জানিয়েছেন, নাগরিকদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।
এদিকে সোমবার ‘চলো দিল্লি’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন রাহুল। নাগরিক সমাজ ও ছাত্রযুবদের তিনি কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মিছিল শুরুর সময় দুপুর দেড়টা। কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছিল, বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি দেখা করতে অস্বীকার করায় সেই কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেনি বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে বিরোধীদের কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত দিল্লির ৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) সোমবার পথে নামার কথা জানিয়েছে, যদিও তাদের কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।