ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শ্রম কোড আইন বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে ২১টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের প্রভাব পড়ল রাজ্যেও। শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকে “শ্রমিক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, বাংলা বাঁচাও” স্লোগান তুলে ধর্মঘট পালন করা হয়। তবে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় জরুরি পরিষেবা ও পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিবহনে ছাড় রাখা হয়। ফলে ধর্মঘটের প্রভাব কোথাও তীব্র, কোথাও আংশিক, আবার কোথাও প্রায় নেই বললেই চলে।
জলপাইগুড়ি শহরে ধর্মঘটের স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়। শহরের বড় পোস্ট অফিসের গেটে সিআইটিইউ-এর লাল পতাকা টাঙিয়ে গেট বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল ও পিকেটিং চলে। বাজার ও সরকারি দফতরগুলিতেও আংশিক প্রভাব পড়ে বলে জানা গেছে। হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় গ্যাঞ্জেস জুট মিলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। মিল গেটের সামনে পিকেটিং করে ধর্মঘটের সমর্থনে স্লোগান দেন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের ছবিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ব্যারাকপুর এলাকায় ধর্মঘটের প্রভাব ছিল মিশ্র। শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এদিন কলকারখানাগুলি স্বাভাবিক দিনের মতোই খোলা ছিল। অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দেন। যদিও সকাল থেকেই মিল গেটের সামনে ধর্মঘটের সমর্থনে স্লোগানিং চলে। শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার চালানো হয়।
তবে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়। একাধিক ব্যাঙ্ক শাখার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং কিছু জায়গায় ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়েন। এলআইসি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়।
রাজ্য জুড়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় শ্রম কোড আইন শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী। এই আইন বাতিলের দাবিতেই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিকরণ বন্ধ, মূল্যবৃদ্ধি রোধ, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিও তুলে ধরা হয়।
অন্য দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা এড়াতে পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। বাস, টোটো ও অন্যান্য যানবাহনে ছাড় দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের যাতে কোথাও আটকে পড়তে না হয়, তার জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল হলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। প্রশাসনের তরফে সতর্ক নজরদারি চালানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হয়। সব মিলিয়ে সারা ভারত ধর্মঘটের রাজ্যে প্রভাব ছিল মিশ্র। কোথাও সরকারি দফতর ও ব্যাঙ্কে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, কোথাও শিল্পাঞ্চলে কাজকর্ম প্রায় স্বাভাবিক থেকেছে। পরীক্ষার মরশুম চলায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, এই ধর্মঘট কেন্দ্রের শ্রম নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রতিফলন। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালু রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
