ওঙ্কার ডেস্ক : শুক্রবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে বিজেপি ও আরএসএস-এর মধ্যে “সমন্বয়ের অভাব” রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিজেপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যেন ‘জেন-জি’ আন্দোলন নিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য মেনে চলেন।
মুম্বাইতে ‘জেন-জি’ এবং ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোহন ভাগবত মন্তব্য করেছিলেন, ‘জেন-জি’ আন্দোলন দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগগুলোও যথার্থ। এই মন্তব্যের ঠিক পরের দিনই দীপকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন।
নিজের শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন: “গতকালকের আলাপচারিতায় মোহন ভাগবত যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলেছেন তা হল—’জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মকে কোনোভাবেই দেশবিরোধী বলা উচিত নয়। যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের সেই অধিকার রয়েছে এবং তাঁদের তোলা বিষয়গুলোও প্রকৃত।”
তিনি বিজেপি নেতাদের আরএসএস প্রধানের কথা শোনার আহ্বান জানান। দীপকে আরও বলেন, “আমাদের (যন্তর মন্তরের) প্রতিবাদের সময় বিজেপি নেতা নীতিন নবীন আমাদের ‘ভাইরাস’ বলেছিলেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আমাদের ‘সন্ত্রাসবাদীদের বি-টিম’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তাই আমার মনে হয়, এঁদের মোহন ভাগবতের কথা শোনা উচিত; কারণ এক অর্থে তিনিই বিজেপির পরামর্শদাতা ও অভিভাবক।”
তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি নেতারা যদি “তাঁদের পরামর্শদাতার কথাই না শোনেন, তবে তা বেশ সমস্যাজনক”। দীপকে জানান, “আসলে, মোহন ভাগবত জির নিজেই বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত।”
ভাগবতের বক্তব্যের সূত্র ধরে সিজেপি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা মন্তব্য করেন: “মনে হচ্ছে বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই, কারণ তারা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে… আরএসএস এবং বিজেপির অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার আরএসএস প্রধান ভাগবত বলেন: “যদি ‘জেন-জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা প্রতিবাদ করে, তবে তারা দেশবিরোধী নয়। তারা আমাদেরই আপনজন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম… আমি বিশ্বাস করি না যে ‘জেন-জি’র চরিত্র তেমন… আমার মনে হয় নতুন প্রজন্ম—অর্থাৎ ‘জেন-জি’ এবং ‘জেন-আলফা’—আমাদের বর্তমান প্রজন্মের চেয়েও বেশি সৎ; দেশপ্রেম ও সেবার সৎ আহ্বান তাদের ওপর কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মকে অনেক বেশি সৎ বলে মনে হয়েছে এবং দেশপ্রেম ও সেবার আহ্বান তাদের মনে সাড়া জাগায়।”
এদিকে দীপকে জানান যে, সিজেপি এমন একটি ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করবে যা “রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের পরিবর্তে দেশ ও যুবসমাজকে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে মানুষকে একত্রিত করবে”। দেশের নাগরিকরা যখন তাদের মতাদর্শ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে একত্রিত হন, তখন তাঁরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি অভিজিৎ দীপকের।