নিজস্ব প্রতিনিধি : মহাভারতের মূল চরিত্র যেমন পঞ্চপান্ডব, কৌরবদের দূর্যোধন, দুঃশাসন,শকুনি, গান্ধারী, কর্ণ, ঘটোৎকচ, দ্রৌপদী ইত্যাদির মুখ আমাদের কাছে ভেসে ওঠে। কিন্তু বেশ কিছু চরিত্র আছে যাদের উপস্থিতি মহাকাব্যে কম হলেও গুরুত্বপূর্ণ। মহাভারতের প্রত্যেকটি পর্বে মাঝে মাঝে উঠে এসেছেন তাঁরা। আর এখান থেকেই ভাবনার শুরু হয়েছিল হাওড়ার বাগনান থানা এলাকার হারপের বাসিন্দা ক্লাস এইটের ছাত্রী তানভী ভৌমিকের।
ছোটবেলায় মা,বাবা, আত্মীয়দের কাছ থেকে মহাভারতের গল্প শুনতে ভালোবাসতো সে। পরে বড় হয়ে বাংলায় লেখা মহাভারত পড়ে সব চরিত্রের ছবি আঁকা শুরু করে তানভি।
তানভিরের এই আগ্রহ দেখে উপযুক্ত পরামর্শ দেন তাঁর অঙ্কন শিক্ষক সৈকত খাঁড়া। প্রায় ছয় মাস ধরে পাঁচশো চরিত্রের ছবি আঁকে তানভী। সৈকত বাবুর পরামর্শে পাঠানো হয় ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে। অবশেষে মিললো সাফল্য। ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস তাঁর কাজকে স্বীকৃতি দিল। তানভির কাজের স্বীকৃতির পুরস্কার পৌঁছে দিয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস।
সৈকতবাবুর দাবী, “এই ধরনের কাজ এই বয়সে বিরল। সম্ভবত বিশ্বে প্রথম”। আর মেয়ের এই সাফল্যে খুশি হয়ে বাস্তবিক ভাবেই কেঁদেই ফেললেন মা সোমা ভৌমিক। তিনি জানান, “আমি কেমিস্ট্রির ছাত্রী। ছবি এঁকে কিছু হবে না -এই ধারণা ছিল। পড়াশোনার ফোকাস নষ্ট হবে বলে অনেক সময় খাতা ও ফেলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছবিই ওকে সর্বভারতীয় পরিচিতি দিয়েছে। আমি গর্বিত।”
এই সাফল্য নিয়ে তানভি ভৌমিকের বাবা জানান, “প্রথমে কিন্তু ভাব দেখালেও ছবি আঁকার প্রেমে পড়ে যায় মেয়ের মা। রাতের পর রাত জেগে মেয়েকে ছবি আঁকতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”
