ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গঙ্গাসাগরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের সময় মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় তীব্র ভাষায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে তুলোধনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে কড়া ভাষা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে যে ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নামে বহু জায়গায় প্রবীণ নাগরিক, মহিলা ও দরিদ্র মানুষকে অযথা ডেকে পাঠানো হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো হচ্ছে, এমনকি বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনে তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেও আদালতের দ্বারস্থ হবেন। রাজ্য সরকারের তরফে আইনগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং প্রশাসনিক নির্দেশনার অভাবে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রয়োজনীয় হলেও তা মানুষের সম্মান ও অধিকার বজায় রেখেই করতে হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেও বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রূপক ব্যবহার করে বলেন, বাংলা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো যদি কেউ কামড়াতে আসে, তবে পাল্টা জবাবও তেমনই হবে। নাম না করলেও এই মন্তব্যের লক্ষ্য যে বিজেপি এবং কেন্দ্রের শাসক দল, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার মানুষের উপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হলে রাজ্য সরকার চুপ করে বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে লড়াই করতেও পিছপা হবে না।
এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপড়েন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে যাওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক বার্তার এই সমন্বয় আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বঙ্গে এস আই আর নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে। তৃণমূলের কর্মীরা কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে বিক্ষোভ জানিয়েছে। এমনকি মুখুমন্ত্রী খোদ তিন পাতার চিঠি লিখেছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐ চিঠির তীব্র বিরোধিতা করে কমিশনকে একটি চার পাতার চিঠিও লেখেন।
