চোখের নিচের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই এই অংশে রক্তনালি, পিগমেন্টেশন বা ত্বকের গঠনগত পরিবর্তন সহজেই দৃশ্যমান হয়ে ডার্ক সার্কেলের মতো দেখাতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, অ্যালার্জি,জলশূন্যতা এবং অতিরিক্ত রোদে থাকা এর অন্যতম কারণ। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বংশগত কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়ার ফলে ডার্ক সার্কেলকে আরও স্পষ্ট করে। তাই শুধু একটি প্যাক ব্যবহার করলেই সব ধরনের ডার্ক সার্কেল সম্পূর্ণ দূর হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
১. শসা ও অ্যালোভেরা প্যাক
শসায় প্রচুর জল থাকে এবং এটি ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে পারে। একটি ছোট শসা কুরিয়ে তার সঙ্গে এক চা-চামচ বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চোখের নিচের অংশে পাতলা করে লাগানো যেতে পারে। ১০–১৫ মিনিট পর পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২–৩ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বিশেষ করে ক্লান্ত বা শুষ্ক দেখানো চোখের চারপাশে সাময়িক সতেজতা দিতে পারে।
২. ঠান্ডা গ্রিন-টি প্যাক
গ্রিন টিতে ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ব্যবহৃত গ্রিন-টি ব্যাগ ঠান্ডা করে চোখ বন্ধ করে ১০ মিনিটের মতো চোখের ওপর রাখা যেতে পারে। এটি চোখের চারপাশের ফোলাভাব ও ক্লান্ত চেহারা সাময়িকভাবে কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে টি-ব্যাগ যেন খুব ঠান্ডা বা ভেজা অবস্থায় চোখের ভেতরে তরল ঢুকিয়ে না দেয়।
৩. আলুর রস ও তুলোর প্যাক
কাঁচা আলুতে কিছু উপাদান রয়েছে যা ত্বকের পিগমেন্টেশন নিয়ে ঘরোয়া যত্নে ব্যবহার করা হয়। একটি আলু কুরিয়ে রস বের করে তুলোয় ভিজিয়ে চোখের নিচে ১০ মিনিটের জন্য লাগানো যেতে পারে। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে সংবেদনশীল ত্বকে আলুর রস জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগে ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডার্ক সার্কেল কমাতে ঘরোয়া প্যাকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সানস্ক্রিম ব্যবহার, পর্যাপ্ত জল পান এবং চোখ না ঘষার অভ্যাস বজায় রাখা উচিত।