স্পোর্টস ডেস্ক :সালটা ২০১৭ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন মুকুল রায়। একের পরে এক আক্রমণ করে যাচ্ছেন তৃণমূল আর মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। অথচ তার ছেলে শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলেই আছেন। বাবা ছেলের বিভিন্ন দলে থাকা নিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ একাধিক তৃণমূল নেতা মুখ খোলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল বাবা ছেলের এই খেলা চক্রান্ত তারা নিজেদের জায়গা টিকিয়ে রাখতে দুই দিকেই আছেন। পরে অবশ্য মুকুল রায়ের ছেলে বিজেপিতে আসেন।একই ছবি হয়ত বাংলা ক্রিকেটের অন্দরমহল সিএবিতেও। যেমন যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস আর তার ছেলে দেবানিক দাস। দেবব্রতর হাত ধরে তার সিএবিতে প্রবেশ টাউন ক্লাবের সচিবও তিনি । এখন সিএবি ভোটের আগে দুই ভাগে ভাগ। অর্থাৎ এক গোষ্ঠীর দিকে দেবব্রত আর এক গোষ্ঠীর দিকে ছেলে দেবনিক। অর্থাৎ দুই দিকেই নিজেদের পরিবারের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা।পরে দেবব্রত আর দেবানিক মুকুল আর শুভ্রাংশুর মত এক গোষ্ঠীতে যান কিনা সময় বলবে। প্রশ্ন থাকবেই বাবা আর ছেলে কি কখনও আলাদাদিকে থাকতে পারে না পুরোটাই লোক দেখানো!প্রসঙ্গত ২ দিন আগেই দেবব্রত দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে আদিত্য গ্ৰুপ অফ স্পোর্টস।CAB ক্লাব ক্রিকেটে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদিত্য গ্রূপের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দেবব্রত নিয়েছেন। কিন্তু পরে কিছুই করেননি। পুরো বিষয় জানিয়ে CAB সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় কে চিঠি দিয়ে জানায়।আর দ্বিতীয় অভিযোগ আসে টাউন ক্লাবের সভাপতি বিশাখ ঘোষের কাছ থেকে। তিনি সরাসরি CAB এর অম্বুডসম্যানকে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাউন সচিব দেবব্রত তরুণ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বাংলা দলে সুযোগ পাইয়ে দেবে বলে বেশ কিছু ক্রিকেটারের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়েছেন। বাংলা দল নির্বাচনে তার নাকি বড় ভূমিকা থাকে। নির্বাচকদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন। অভিযোগ, তরুণ ক্রিকেটারদের এই সব বলে বাংলা দলে সুযোগ দেওয়ার নাম করে টাকা নিতেন। CAB লিগ খেলা কোনও ক্লাবে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু ক্রিকেটারদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা নিয়ে ক্লাবে সই করাননি। এই তথ্য জানিয়ে টাউন ক্লাবে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা। যদিও দেবব্রত দাস জানিয়েছেন,’ওই লেটারহেড জাল।আমি একটা বিশেষ গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করতাম এখন আর করি না বলে আমার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।যদি টাকা নিই তাহলে রশিদ দেখাক না।’বিশাখ পাল্টা বললেন,’আমি সভাপতি ওটা আমার সই আমি নিজের সই জাল করব! ওটা পুরোনো লেটারহেড।’ তাহলে বিশাখ পুরোনো লেটারহেড দিলেন কেনো! উত্তর নেই। আগামী ১৯ জুলাই অম্বুডসম্যান শুনানি! ময়দানের দেবু সেখানে দোষী প্রমাণিত হবে কিনা সেদিনই জানা যাবে
। তবে দেবব্রত আর দেবানিকের অঙ্ক সিএবি ভোটের আগে বেশ জটিল।
