ওঙ্কার ডেস্ক : আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘ভারতী: নারী সে নারায়ণী’ থিমের জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে রবিবার বিজ্ঞান ভবনে নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিক শক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট মহিলারা সমাজ এবং জাতি গঠনে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সাংসদ কবিতা পতিদার, মায়া নারোলিয়া এবং সুমিত্রা বাল্মিক। এছাড়া আনন্দমূর্তি গুরুমা, যোগিনী মুক্তি নাথ, মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী মৈত্রী গিরি, সাধ্বী অনাদি সরস্বতী এবং সাধ্বী সুনীতা শাস্ত্রী সহ আধ্যাত্মিক নেতারাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের বক্তব্যে নুঠে আসে ভারতীয় সমাজে নারীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ঋতু করিধাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ভারতের চন্দ্র অভিযানের সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সময় ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অবতরণের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জন করেছে। অবতরণ স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শিব শক্তি পয়েন্ট’, যা নারী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অবদানের প্রতীক।” তাঁর কথায়, তরুণীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করে। সম্মেলনের ফাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের স্ত্রী মৃদুলা প্রধান বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে এবং এই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য নিজেই একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। একজন নারী হলেন দেবীর মতো। ‘নারী থেকে নারায়ণী’ ধারণাটি সমাজে নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত সম্মান এবং শক্তিকে প্রতিফলিত করে।”
মহামন্ডলেশ্বর স্বামী মৈত্রী গিরি বলেন, “আজকের দিনে নারীদের সহজাত শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। যখনই ধর্মে কোনও সংকট দেখা দিয়েছে, তখনই ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের জন্য ঐশ্বরিক নারীশক্তির আবির্ভাব ঘটেছে।” সাধ্বী সুনীতা শাস্ত্রী সমাজ গঠনে মাতৃশক্তির গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে মূল্যবোধ এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মায়েরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে নারীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সাধ্বী অনাদি সরস্বতী। তিনি উল্লেখ করেন যে নারীরা আধ্যাত্মিক অনুশীলনকারী এবং গৃহিণী উভয়ভাবেই সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
যোগিনী মুক্তি নাথ বলেন, “সমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে নারীরা মৌলিক ভূমিকা পালন করে। একজন ভারতীয় নারী যেমন একটি সন্তানের জন্ম দেন, তেমনি তিনি আমাদের ঐতিহ্য অনুসারে শিশুকে লালন-পালন ও নির্দেশনাও দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, জন্মের সময় ঈশ্বর যখন একটি শিশুর ভাগ্য লেখেন, তখন মা-ই তার মূল্যবোধ এবং লালন-পালনের মাধ্যমে সেই ভাগ্য গঠন করেন।”

আধ্যাত্মিক শিক্ষক আনন্দমূর্তি গুরুমা মন্তব্য করেছেন যে, ভারতে প্রতিটি দিন প্রতীকীভাবে নারীত্ব উদযাপন করা হয়। “নবরাত্রির মতো উৎসব নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর অবদানকে স্বীকৃতি ও উদযাপনের আরেকটি সুযোগ দেয় বলে তিনি মনে করেন।
দু দিনের এই সম্মেলনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারী নেত্রীদের একত্রিত করে তাঁদের ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব এবং আধুনিক ভারতে নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলে।
