অর্পিতা মুখার্জী, হাওড়া : হাওড়ার ডোমজুড়ে ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। পুজোর মরশুমের পর থেকেই বাঁকড়া এলাকায় লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ১৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে শুধু বাঁকড়াতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ মনিরুল ইসলাম নিজেও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ বাঁকড়া-১ পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানে আক্রান্ত ২৯ জন। বাঁকড়া-২ ও ৩ নম্বর পঞ্চায়েত মিলিয়ে আক্রান্ত ১৮ জন। ডোমজুড় বিধানসভার এই তিনটি পঞ্চায়েতেই এখন ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর, জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে আক্রান্ত এলাকাগুলিতে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম পাঠানো হয়েছে। জমা জল থেকে লার্ভা খোঁজা, মশা মারার তেল স্প্রে করা, নর্দমা ও আবর্জনা সাফাই এবং ব্লিচিং ছড়ানোর কাজ চলছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতার প্রচারও চালানো হচ্ছে যাতে ছোট পাত্রে জল জমে না থাকে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত জানান, মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে স্বাস্থ্যকর্মীরা लगातार কাজ করছেন। সচেতনতার অভাবেই সংক্রমণ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তাঁর দাবি। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হিসেবে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গোটা হাওড়া জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ৭৪৫ জন। তার মধ্যে শুধু হাওড়া পুরসভা এলাকাতেই ৩২৩ জন।
এদিকে আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধান মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, সচেতনতার প্রচার চালালেও এলাকার একাংশ সহযোগিতা করেননি, তার জেরেই সংক্রমণ বেড়েছে।
এই ডেঙ্গিকে ঘিরেই ডোমজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বুধবার বাঁকড়ার নিউমণ্ডল পাড়ায় বিজেপির তরফে মশারি বিলি করা হয় এবং রাস্তায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হয়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সংকটের সময় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তাপস মাইতিকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁরা জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিধায়ক তাপস মাইতির বক্তব্য, এখন রাজনীতি করার সময় নয়। ঘটনা জানার পরই তিনি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিডিও এবং পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নর্দমা সাফাই থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।