অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেই ফের মুখ পুড়ল বিজেপির! বিধান পরিষদের স্নাতক কোটার আসনেও পদ্ম প্রার্থীকে হারাতে চলেছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। এর আগে শিক্ষক কোটার আসনটিও হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। অর্থাৎ বারাণসীতে ফলাফল ২-০, দুটিতেই হার বিজেপির।
স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত বারাণসী আসনে এখনও দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা চলছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিং। ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লেখেন, জনতার রায় তিনি মাথা পেতে নিচ্ছেন। যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি। আশানুরূপ ফল না হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করলেও কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।তাঁর কথায়, ভোটে জেতা বা ক্ষমতার আসনে বসাই শেষ কথা নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই জনপ্রতিনিধির আসল কাজ।
এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে এসপি প্রার্থী আশুতোষ সিং পেয়েছেন ৫০,৪৬২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ পেয়েছেন ৩৩,৬৭৪টি ভোট। ১৬,৯৮৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন এসপি প্রার্থী।
অন্যদিকে জয় নিশ্চিত জেনেও কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, শান্ত থাকুন, জয়ের শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনা কেন্দ্র ছাড়বেন না।
উত্তরপ্রদেশে মোট ১১টি বিধান পরিষদ আসনে ভোট হয়েছিল শুক্রবার। তার মধ্যে বুধবার ফল ঘোষণায় দেখা যায়, বারাণসীর শিক্ষক কোটার আসনে বিজেপির প্রমোদকুমার মিশ্রকে ৪,৮৯৮ ভোটে হারিয়েছেন এসপি প্রার্থী লালবিহারী যাদব। এছাড়া আগরা শিক্ষক, ঝাঁসি স্নাতক এবং লখনউ স্নাতক আসনেও জিতেছে এসপি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪টি আসনে জিতেছে এসপি। বারাণসী স্নাতক আসনটি পেলে সংখ্যাটা হবে ৫। বিজেপি জিতেছে ৬টি আসনে — মেরঠ শিক্ষক, মেরঠ স্নাতক, বরেলী শিক্ষক, লখনউ শিক্ষক, আগরা স্নাতক এবং গোরক্ষপুর শিক্ষক।
২০২০ সালে এই ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে বিজেপি, ৩টিতে এসপি এবং ২টিতে নির্দল প্রার্থীরা জিতেছিলেন। এবার এসপির আসন বাড়ল দুটি। বিধানসভা ভোটের আগে এই ফল অখিলেশ শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদে মোট ১০০টি আসন। এর মধ্যে ৩৮ জন বিধায়কদের ভোটে, ৩৬ জন স্থানীয় পঞ্চায়েত-পুরসভার প্রতিনিধিদের ভোটে, ৮ জন স্নাতক ভোটারদের ভোটে, ৮ জন শিক্ষক ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হন। ১০ জনকে মনোনীত করেন রাজ্যপাল। এই নির্বাচনে গোপন ব্যালটে পছন্দ অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় লিখে ভোট দিতে হয়। সদস্যদের মেয়াদ ৬ বছর।
বারাণসী বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে এখান থেকেই জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদী। তার আগে দীর্ঘদিন এই আসনের সাংসদ ছিলেন মুরলী মনোহর জোশী। সেই বারাণসীতেই দুটি পরিষদ আসনে হার তাই বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে প্রতীকী ধাক্কা এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।