ওঙ্কার ডেস্ক: হাসপাতালের ময়নাতদন্তের ঘরে মদের আসর! আর সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজ মাধ্যমে। যার পর থেকে গোটা ঘটনায় শোরগোল তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাসপেন্ড করেছে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরনিগম (PCMC)। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, ঘটনাটি পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের যশবন্তরাও চহ্বাণ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ঘটেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বৈভব অবিনাশ মাসকে। শুক্রবার থেকেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের ময়নাতদন্তের ঘরে মদ্যপানের আসর বসেছিল। সেই সময় এক ব্যক্তি মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহের জন্য হাসপাতালের বাইরে রাতভর অপেক্ষা করছিলেন। ঘরের ভিতরে উঁকি দিয়ে তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসককে মত্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি। পরে ওই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় একটি টেবিলের উপর খাবার ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি বোতলও রয়েছে। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুর প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে প্রথমে পদক্ষেপ করেন পুরনিগমের অতিরিক্ত কমিশনার কুলদীপ জঙ্গম। অভিযুক্ত চিকিৎসক-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নোটিস পাঠানো হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছিল তাঁদের। তবে বিষয়টি রোগীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা পেশার নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কড়া অবস্থান নেন পুর কমিশনার বিজয় সূর্যবংশী। পরের দিনই চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুর প্রশাসনের দাবি, চিকিৎসকের এই আচরণ মহারাষ্ট্র সিভিল সার্ভিসের নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এরপর বিভাগীয় তদন্ত শেষ করা হবে। সাসপেনশন চলাকালীন পিম্পরির সদর দফতর ছেড়ে যেতে পারবেন না অভিযুক্ত চিকিৎসক। একই সঙ্গে এই সময়ে অন্য কোনও চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারবেন না তিনি। এই ঘটনা পুরনিগম পরিচালিত হাসপাতালের নজরদারি ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে মর্গের মতো সংবেদনশীল জায়গায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।