এটি কী ট্রাম্পের স্বাস্থ্যজনিত উদ্বেগের কারণে, নাকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং “দ্য সিম্পসনস” স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে তৈরি ! যাই হোক এই নিয়ে যথেষ্ট শোরগোল নেটিজেনদের মধ্যে।
ওঙ্কার ডেস্ক : “Trump Is Dead” সোশ্যাল মিডিয়া X-এ এমন পোস্ট ঘিরে নেট দুনিয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। কেন এমন পোস্ট, এমন কি করে এল ট্রাম্পের নিজের অ্যাকাউন্টে তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল গোটা দুনিয়া। সমাজ মাধ্যমে এমন পোস্ট ভাইরাল হওয়ায় এর প্রকৃত কারণ খুঁজতে এখন ব্যস্ত ডিজিটাল দুনিয়া। এর সত্যতা নিয়ে যথারীতি পোস্টমর্টেম চলছে সমাজমাধ্যমে। শুধু তাই নয়, এই পোস্ট খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে হওয়ায় কৌতুহল বেড়েছে কয়েক গুন। এরসঙ্গে জড়িয়েছে নানান যুক্তি তর্ক। একদিকে ট্রাম্পের অসুস্থতা তো রয়েছে, তার উপর ট্রাম্প সম্পর্কে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই জল্পনায় ঘৃতাহুতি জুগিয়েছে। ফলে একদিকে সত্যতা অন্যদিকে কারণ, এই দু দিক থেকেই বিশ্ব জুড়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসে ২৭ আগস্ট “USA Today”-র সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সে একান্ত সাক্ষাৎকারের পর। এই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি কমান্ডার ইন চিফের ভূমিকায় পা রাখতে প্রস্তুত ? তখন ভ্যান্স বলেছিলেন, তেমন কোনো “Terrible Tragedy” হলে তিনি প্রস্তুত। তবে তারপরই ভ্যান্স বলেন, “৭৯ বছর বয়সি এই ব্যক্তি সুস্থ এবং উদ্যমী। তবুও অপ্রত্যাশিত ঘটনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে এও বলেন যে তাঁকে রাতে শেষ ফোনটি যিনি করেন তিনি ট্রাম্প, আবার ট্রাম্পের কাছ থেকেই সকালের প্রথম ফোন তিনি পান।
USA Today-কে ভ্যান্স আরও বলেন, “হ্যাঁ, ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে। তবে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সুস্থ আছেন, তাঁর মেয়াদের বাকি সময় তিনি পালন করবেন এবং আমেরিকান জনগণের জন্য দুর্দান্ত কিছু করবেন। আর যদি, ঈশ্বর না করুন, কোনও ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে, তাহলে গত ২০০ দিনে আমি যা পেয়েছি তার চেয়ে ভালো চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের কথা ভাবতে পারি না।”
উত্তরাধিকারসূত্রে ভ্যান্সের মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় রয়েছেন। জুলাই মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্পের দীর্ঘস্থায়ী শিরাজনিত সংকট রয়েছে। এর ফলে পা ফুলে যায়। তাঁর এই ফোলা পায়ের ছবি নিয়েও জল্পনার শেষ নেই। শুধু তাই নয়, “ট্রাম্পের মৃত্যু হয়েছে” এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোলের আরেক কারণ হল তাঁকে দু’বার হত্যার চেষ্টা, যেখান থেকে সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচেছিলেন।
এই ভাইরাল ভিডিওর পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে, তা হল- সিম্পসনস ফ্যাক্টর। জুলাই মাসে সান ডিয়েগো কমিক- কনে দ্য সিম্পসনস-এর স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিং-এর মন্তব্যের মাধ্যমে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভ্যারাইটির উদ্ধৃতি দিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলমান অ্যানিমেটেড সিরিজের স্রষ্টা বলেছেন যে অনুষ্ঠানের “কোনও শেষ দেখা যাচ্ছে না”। তবে এর শেষ পরিণতি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মৃত্যুকে তুলে ধরেছেন। কনে দ্য সিম্পসনস-এ একটা ডায়লগে গ্রোনিং বলেন, “না, কোন শেষ দেখা যাচ্ছে না। আমরা চালিয়ে যাব। আমরা যাব যতক্ষণ না কেউ মারা যায়”। এরপর তিনি একটি লাইন যোগ করেন, “যখন তুমি জানো কে মারা যাবে, তখন দ্য সিম্পসনস-এর ভবিষ্যদ্বাণী, রাস্তায় নাচ হবে। যদি না রাষ্ট্রপতি (জে.ডি.) তা নিষিদ্ধ করেন।” এর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন শুরু হয়। ট্রাম্প সম্পর্কে ভৌতিকভাবে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণীর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এই অনুষ্ঠানের, ২০০০ সালে তার নির্বাচনী জয় থেকে ২০১৫ সালে পুনর্নির্বাচনের গল্প পর্যন্ত।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর ভুয়া খবর এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের X অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। যেখানে হ্যাকার একটি ভুয়া বার্তা পোস্ট করে যে তার বাবা মারা গেছেন এবং তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন যে তিনি বেঁচে আছেন।
