বিপ্লব দাশ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন-ভারত সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তা আপাতত বাতিল। ভাটা এবং প্রবাহের সঙ্গে উভয় দেশই শীতল যুদ্ধের সমাপ্তির পর একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় এর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিগুলি এখন স্পষ্ট। যদিও ট্রাম্পের শুল্ক প্রয়োগ প্রায় প্রতিটি মার্কিন সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলেছে, যেমন- ইসরায়েল, চীন, এমনকি পাকিস্তানের মতো দেশগুলিও ঝড়ের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে হলে নয়াদিল্লিকে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা জানি, ইউপিএ সরকার একসময় শিক্ষাবিদ এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কের উপর নির্ভরশীল ছিল। এখন এনডিএ সরকার কি প্রবাসীদের প্রভাব এবং সরকারি আমলাতান্ত্রিকতাকে অতিরিক্ত মূল্য দিচ্ছে ? কারণ, কূটনৈতিক সংকটের সময়ে উভয় দেশই বাস্তব নীতিগত সুবিধাকে গ্রাহ্য করেনি। কেন এমন হয় ? উত্তরটি নিশ্চয়ই মার্কিন রাজনীতির অতি যান্ত্রিকতার মধ্যে নিহিত।
মার্কিন রাজনীতি বরাবরই ওয়েস্টমিনস্টার-ধাঁচের, গণতন্ত্রের বিপরীতে হাঁটে। স্থায়ী আমলাদের একটি নিম্ন শ্রেণী রয়েছে, কিন্তু তারা মূলত মধ্যম ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করে। প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা হল বেসরকারি উদ্যোগ, শিক্ষাবিদ এবং নীতিবৃত্তের মধ্যে সংযোগকারী একটি ঘূর্ণিদরজার মতো। ক্ষমতা সচিব এবং আন্ডারসেক্রেটারিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয় যাদের মেয়াদ সাধারণত ১৮ থেকে ৩৬ মাস স্থায়ী হয়। এর পরে, তারা তাদের পেশাদার জায়গায় ফিরে যায়। অথচ এরাই দেশে এবং বিদেশে মার্কিন নীতি গঠন করে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চরিত্রটি মাথায় রাখা উচিত।
এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, চিনও তার শক্তি নিয়ে খেলছে। আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট হল বেইজিংয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র। যেখানে সাংহাই ও বেইজিংয়ের লাল-গালিচা পাতা আছে। এই সম্পর্ক এতটাই গভীর যে চিন তার নিয়ম সংশোধন করে গোল্ডম্যান শ্যাক্সকে তার যৌথ উদ্যোগের পূর্ণ মালিকানা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। মাইক ব্লুমবার্গ বা জেপি মরগানের জেমি ডিমন কীভাবে চিন সম্পর্কের কথা বলছেন তা শোনা দরকার। হলিউডও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বক্স অফিস চিনের নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি সাংহাই এবং হংকং থিম পার্কগুলিতে ডিজনির বিনিয়োগ। প্রযুক্তিতে, এনভিডিয়া, অ্যাপল এবং টেসলা বাজারে প্রবেশাধিকারের জন্য চিনের বিডিং করে।
একইভাবে পাকিস্তানও কৌশলগত দিক থেকে এক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে। সেন্টকমের জেনারেল কুরিলাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প পরিবারের স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া পাকিস্তান এই লবিং খেলাটি ভালোভাবে খেলতে পেরেছে। ভারতকে যুঝতে হবে এর সঙ্গে। তা শুধুমাত্র কূটনীতিতে নয়, বরং মার্কিন শক্তির গভীরে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলে নোঙ্গর করতে হবে। এটাই ভারতের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ককে “ট্রাম্প-প্রুফ” করার পথ।
