ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের আসনে বসেই আগ্রাসী বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নে নেমেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জানিয়ে দেন, যেসব দেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে। সেই তালিকায় অন্যান্য দেশের পণ্যের উপরও ১০ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারিত হয়।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে এই শুল্ক নীতির প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয় ২ এপ্রিল, যদিও তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সময় জানিয়েছিল, এই বিরতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার সুযোগ রাখা হচ্ছে। কিন্তু সেই আলোচনার ফল হয়তো প্রত্যাশা মতো হয়নি। তাই নির্ধারিত সময়ের পর ফের নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানায় হোয়াইট হাউস। আর তারই অংশ হিসেবে ভারতের উপর আরোপ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক।
সোমবার ভারতীয় সময় এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বহু বছর আগে এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। আমি প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই চিনের উপর শুল্ক চাপিয়েছিলাম। কিন্তু কোভিড এসে সব পরিকল্পনা আটকে দেয়”। তাঁর দাবি, কোভিড অতিমারির কারণে বাকি দেশের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারেননি তিনি। এই বাড়তি শুল্ক থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আদায়ের আশা করছেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই টাকা দিয়ে দেশের ঋণ শোধ করা হবে। বলেন, “দেশ এর আগে এত টাকা চোখেই দেখেনি। আমরা এই অর্থ দিয়ে বহু পুরনো ঋণ মিটিয়ে ফেলব”।
শুধু অর্থনীতি নয়, ট্রাম্প নিজের বাণিজ্য নীতিকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, “বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমেই বহু সংঘাত থামানো গিয়েছে। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের মতো পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধও আমি বাণিজ্যের মাধ্যমে ঠেকিয়েছি”। তবে ভারতের ক্ষেত্রে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছেন, যেহেতু শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে কিছুটা সময় রয়েছে, তাই আলোচনার দরজা এখনও খোলা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের উপর চাপিয়ে দেওয়া ২৫ শতাংশ শুল্ক দেশের রপ্তানি শিল্পের পক্ষে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, এই শুল্ক-চাপে ভারত সরকার কী কৌশল নেয় এবং আলোচনার টেবিলে কোন সমঝোতা সম্ভব হয়।
