ওঙ্কার ডেস্ক: জাতিসংঘ সদর দফতরে এক অদ্ভুত ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন চলন্ত সিঁড়ি ধরে উপরে উঠছিলেন, তখনই হঠাৎ সেটি বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তেই তারা মাঝপথে আটকে পড়েন এবং পরে নিজেরাই পায়ে হেঁটে উপরের তলায় পৌঁছন। এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হোয়াইট হাউস এটিকে গুরুতর বিষয় হিসেবে ধরে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি করোলাইন লেভিট সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, এটি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে তবে দোষীদের অবশ্যই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর দাবি, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা নিছক কারিগরি বিঘ্ন হতে পারে না, এর মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলন্ত সিঁড়ির সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট অনুযায়ী একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়াতেই এটি হঠাৎ থেমে যায়। তাঁর দাবি, ট্রাম্প দলের ভিডিওগ্রাফার পিছন দিকে হেঁটে আসছিলেন, সম্ভবত সেই কারণেই সিঁড়ির সেন্সর সক্রিয় হয় এবং সুরক্ষার খাতিরে যন্ত্রটি বন্ধ হয়ে যায়। শুধু চলন্ত সিঁড়ি নয়, ট্রাম্পের ভাষণের সময় টেলিপ্রম্পটারেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। ট্রাম্পকে মাঝপথে চিরকুট থেকে বক্তব্য পড়তে হয় এবং তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “যে টেলিপ্রম্পটার চালাচ্ছেন, তাঁর কপালে বড় দুঃখ আছে।” যদিও জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ জানায়, টেলিপ্রম্পটার সিস্টেম স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছিল, এবং সেটি মার্কিন দলেরই নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ট্রাম্প অবশ্য ভাষণে দাবি করেন, যদি মেলানিয়া দুর্বল হতেন, তবে সিঁড়ি থেমে যাওয়ায় তিনি পড়ে যেতে পারতেন, তাই ঘটনাটি মোটেই হালকা করে দেখার নয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন এটি নিছক একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবার ট্রাম্প সমর্থকরা দাবি করছেন এটি ছিল পরিকল্পিত বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা।
