নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উৎসব দুর্গাপুজো। সারা বছর অপেক্ষার পর পুজোর চারটি দিন এলেই বাঙালি মহিলাদের মনে শুরু হয় সাজপোশাকের নানা পরিকল্পনা। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিটি দিনেই চাই নতুন লুক, নতুন সাজ আর নজরকাড়া উপস্থিতি। তবে অনেক মহিলার মনেই প্রশ্ন থাকে, নিজের শরীরের গঠন এবং গায়ের রং অনুযায়ী কোন ধরনের পোশাক পরলে সবচেয়ে সুন্দর লাগবে? আসলে সৌন্দর্যের কোনও নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। সঠিক পোশাক নির্বাচন, রঙের ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসই একজন মহিলাকে করে তুলতে পারে অনন্যা।
ষষ্ঠী: হালকা সাজে সাবেকিয়ানা
পুজোর প্রথম দিন ষষ্ঠীতে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। যাঁরা একটু মোটা, তাঁরা চাইলে সোজা কাটের কুর্তি, এ-লাইন কুর্তি কিংবা হালকা কাপড়ের শাড়ি পরতে পারেন। খুব বেশি আঁটসাঁট পোশাকের পরিবর্তে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো। রোগা মহিলাদের ক্ষেত্রে ফ্লেয়ারযুক্ত কুর্তি, লেয়ারড পোশাক কিংবা জমকালো ব্লাউজ সুন্দর মানাতে পারে। শ্যামলা ত্বকে মেরুন, সবুজ, সরষে হলুদ ও নীল রং দারুণ ফুটে ওঠে। ফর্সা ত্বকে গোলাপি, লাল, আকাশি কিংবা প্যাস্টেল রঙের পোশাকও আকর্ষণীয় লাগে।
সপ্তমী: রঙিন পোশাকে আধুনিকতার ছোঁয়া
সপ্তমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখা—সারাদিনের জন্য দরকার এমন পোশাক, যা আরামদায়ক অথচ ফ্যাশনেবল। মোটা মহিলারা মিডি কুর্তি, পালাজো, সোজা কাটের সালোয়ার-কামিজ কিংবা সুন্দরভাবে পরা সুতি শাড়ি বেছে নিতে পারেন। রোগা মহিলারা অনারকলি, ঘেরওয়ালা পোশাক, প্রিন্টেড শাড়ি অথবা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে নজর কাড়তে পারেন। গায়ের রং শ্যামলা হলে কমলা, টিল ব্লু, বেগুনি ও উজ্জ্বল সবুজ ভালো বিকল্প। ফর্সা মহিলারা লাল, নীল, পিচ কিংবা ল্যাভেন্ডার রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। তবে রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টমী: শাড়িতেই বাঙালিয়ানার আসল সৌন্দর্য
অষ্টমী মানেই অঞ্জলি, অষ্টমীর ভোগ আর লালপাড় সাদা শাড়ির চিরন্তন আকর্ষণ। এই দিনে শরীরের গঠন নির্বিশেষে সব মহিলাই শাড়িতে অপরূপা হয়ে উঠতে পারেন। একটু ভারী গড়নের মহিলারা নরম কাপড়ের শাড়ি, হালকা তাঁত কিংবা ভালোভাবে ড্রেপ করা শাড়ি বেছে নিতে পারেন। রোগা মহিলাদের ক্ষেত্রে জামদানি, কটন শাড়ি, সিল্ক কিংবা হালকা জমকালো শাড়ি দারুণ মানায়। শ্যামলা ও ফর্সা—উভয় ত্বকের মহিলারাই লাল-সাদা, লাল-কালো, নীল কিংবা সবুজ শাড়িতে সুন্দর দেখাতে পারেন। সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ, ছোট টিপ, কানের দুল ও খোঁপায় ফুল সাজকে করে তুলবে সম্পূর্ণ।
নবমী: জমকালো সাজে ফ্যাশনের ছোঁয়া
নবমীর রাত মানেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া আর প্যান্ডেল হপিং। এই দিনে লং কুর্তি, ইন্দো-ওয়েস্টার্ন গাউন, সিকুইন-যুক্ত পোশাক কিংবা স্টাইলিশ শাড়ি বেছে নেওয়া যেতে পারে। মোটা মহিলারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী সুন্দর কাটের গাউন বা মনোক্রোম পোশাক পরতে পারেন। রোগা মহিলারা ঘেরওয়ালা লেহেঙ্গা, ফ্লেয়ারড গাউন কিংবা লেয়ারড পোশাকে আধুনিক লুক পেতে পারেন। শ্যামলা ত্বকে কপার, ব্রোঞ্জ, গাঢ় লাল ও পান্না সবুজ রং নজরকাড়া। ফর্সা ত্বকে রয়্যাল ব্লু, ওয়াইন, গোলাপি ও কালো রংও দারুণ মানায়। সাজের সঙ্গে মানানসই মেকআপ ও জুতো বেছে নিতে ভুলবেন না।
দশমী: সিঁদুরখেলায় ঐতিহ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য
দশমীর সাজে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকা চাই। লালপাড় সাদা শাড়ি, লাল ব্লাউজ, বড় টিপ, শাঁখা-পলা ও সিঁদুরের সাজে সব মহিলাকেই সুন্দর দেখায়। যাঁরা শাড়ি সামলাতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা লাল-সাদা কুর্তি কিংবা ঐতিহ্যবাহী পোশাকও বেছে নিতে পারেন। শরীরের গঠন বা গায়ের রং নিয়ে অযথা চিন্তা না করে এমন পোশাক পরুন, যাতে সহজে চলাফেরা করা যায় এবং সারাদিন আনন্দে কাটানো যায়।
সবশেষে একটাই কথা: পুজোর ফ্যাশনে মোটা, রোগা, শ্যামলা কিংবা ফর্সা হওয়া কোনও বাধা নয়। নিজের শরীরকে ভালোবাসুন, নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন এবং আরামের সঙ্গে ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটান। কারণ, পোশাকের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সঙ্গে মিশে থাকে আত্মবিশ্বাস, হাসি আর উৎসবের আনন্দ।