প্রদীপ মাইতি, এগরা : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এগরা-২ নম্বর ব্লকের বালিঘাই সমবায় সমিতির পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। তবে ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসতেই দেখা গেল তৃণমূল, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোটকে কার্যত ধুলিসাৎ করে একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে বিজেপি। সমিতির মোট ৯টি আসনের প্রতিটিতেই জয়লাভ করে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে বোর্ড নিজেদের দখলে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
এই সমবায় নির্বাচনটির সবচেয়ে রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল বিরোধী দলগুলির জোটবদ্ধ লড়াই। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠেকাতে এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল স্থানীয় স্তরে হাত মিলিয়ে একটি ‘মহাজোট’ তৈরি করেছিল। তবে ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট যে, এই তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস রামধনু জোট সাধারণ ভোটারদের মোটেই প্রভাবিত করতে পারেনি। বিরোধী জোটে লড়াই করেও এই তিন দল কোনো আসনেই খাতা খুলতে পারেনি। শূন্য হাতেই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
বালিঘাই সমবায় সমিতিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫২৭ জন। নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকার সমবায় সদস্য এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। সব মিলিয়ে ৪৫৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী এবং টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূণভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
ভোট গণনা শেষে ৯-০ ব্যবধানে বিজেপির জয়ের খবর আসতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গেরুয়া আবীর উড়িয়ে ও মিষ্টি মুখ করিয়ে জয়োল্লাসে মেতে ওঠেন দলীয় কর্মীরা। বিজয়ী প্রার্থীদের সংবর্ধনা জানাতে এবং এই জয় উদযাপন করতে উপস্থিত ছিলেন একাধিক স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
বিজেপি মণ্ডল সভাপতি: মণীষা গুচ্ছাইত ও দেবাশীষ আচার্য, বিজেপি নেতা আশীষ ধাওয়া, দেবকুমার পণ্ডা, সাগর জিৎ, রবীশঙ্কর মাইতি, অসীম মাইতি, সৌমিত্র দাস অধিকারী, চন্দন পণ্ডা, তাপস জিৎ, অমলেশ পাহাড়ি, সূর্যেন্দু বর, কমল গিরি, তপন মন্ডল প্রমুখ।
এগরার বালিঘাই সমবায় সমিতির এই ফলাফল কেবল একটি গ্রামীণ ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয় নয়, রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিত ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নিজস্ব সমীকরণের দিক থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় স্তরে বিরোধীদের সমস্ত রকম ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিজেপির এই নিরঙ্কুশ জয় জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।