প্রশান্ত কুমার দাস, মালদা : গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির ফলে জল ঢুকলো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কার্যত বন্ধ চিকিৎসা পরিসেবা। ফলে অসুবিধায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। মালদার রতুয়ার কাটাহা দিয়ারায় একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র মহানন্দটোলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলমগ্ন। পাশাপাশি জল ঢুকেছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। জলবন্ধি রতুয়ার চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০ হাজার মানুষ। রাস্তার উপর দিয়ে বইছে বন্যার জল। জলে ডুবেছে বিধায়কের বাড়ি। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। যদিও পর্যাপ্ত নৌকা নেই বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
নদী ভাঙন ও বন্যা ওদের কাছে ফি বছরের ঘটনা। তবে এবারের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গঙ্গার চর কাটাহা দিয়ারা। ভুতনিতে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে শতাধিক গ্রামে। লক্ষাধিক মানুষ জলবন্দী। অন্যদিকে রতুয়ার বিলাইমারি ও মহানন্দটোলা এলাকায় বন্যার জলে প্লাবিত ৮০ হাজার মানুষ। বাদ যাইনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পঞ্চায়েত অফিস। এমনকি বিধায়কের বাড়িতেও জল ঢুকেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রত্যেক বছর গঙ্গার জলেশ্বর বারলেই গ্রামে জল ঢুকে যায় এই বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। এই বছর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে এক বুক জল রয়েছে। রাতবিরাতে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে সাপের ভয়ে ঢোকা যায় না। ডাক্তার থাকলেও সেখানে চিকিৎসার জন্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ওয়ার্ডের মধ্যে জল। এই পরিস্থিতিতে আমরা কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।
ওই স্বাস্থ্য করলে কর্মরত চিকিৎসক বলেন, আবু সারোয়ার বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে কোমর পর্যন্ত জল। দুই দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে এই জল ঢুকেছে। পুরোটা আমরা জলমগ্ন অবস্থায় কাটাচ্ছি। ভয়ের মধ্যে আছি। এখনো আমরা চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। যারা আসছেন এই এক কোমড় জলে আসছেন। এইভাবে আমরা পরিষেবা দিচ্ছি।
রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সমর মুখার্জী বলেন, এই গ্রামের একটি মাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র গঙ্গার জল ঢুকে গিয়েছে। আমরা নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালে যা রোগী ছিল তারা সবাই আশ্রয় নিয়েছে বাঁধের উপরে। এখন নৌকাও চিকিৎসকের কাছে নেই। আমার জানা নেই জেলাশাসক কি নির্দেশ দিচ্ছেন। সমস্ত মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে ব্যাহত হচ্ছে।