রবিবার ইডেনে অনুষ্ঠেয় বেঙ্গল টি২০ লিগের ফাইনালে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরে। রাজ্যের ক্রীড়া ও ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিকাশ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের।পাশাপাশি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ সিএবির ৫ অফিস অফিস বেয়ারার সই করা চিঠি ক্রীড়ামন্ত্রীকে দেওয়া হয় প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া ইন্দ্রনীল খানকে চিঠি দেন গত সপ্তাহে সেখানে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি থামানোর কথা বলেন।বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্র থাকলেও নাম না করে অভিষেক আসলে সি এ বির দুর্নীতির কথায় বলেন । বাংলার কোনও ক্রীড়া সংগঠক,সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে দুর্নীতি দমনের আর্জি জানিয়ে চিঠি দিচ্ছেন অতীতে এমনটা দেখা যায়নি।
অভিষেক চিঠিতে লিখেছেন, বাংলার ক্রীড়ায় তরুণ ক্রীড়াবিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। কারণ একমাত্র যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তরুণ খেলোয়াড়দের দেখার কথা বলেছেন। তারপরেই ক্রীড়ামন্ত্রীকে অভিষেক লিখছেন, গত কয়েক বছরে ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার ঘটনা সামনে এসেছে একাধিকবার। একজন খেলোয়াড়কে দলে জায়গা পেতে হলে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বাস যোগ্যতা কমেছে। ‘রাজ্যের একটি সংস্থার এক কমিটি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। খেলোয়াড়কে টাকার বিনিময়ে দলে সুযোগ দেওয়া এবং প্রতিযোগিতায় সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অর্থ লেনদেন অর্থাৎ অভিযুক্তর ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার স্ক্রিনশট সহ অন্যান্য নথি দিয়ে অভিযোগ করার পরও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেই ভাবে তদন্ত করেনি। বরং অভিযোগকারীকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বোঝানো হয়েছিল।’
ক্রীড়ামন্ত্রীকে লেখা অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পরে আন্দাজ করায় যায় তিনি সি এ বির নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট এর সদস্য অম্বরীশ মিত্রর কথা বলতে চেয়েছেন। এরপরই ক্রীড়া মন্ত্রী অভিষেকের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এরপরই সৌরভ বনাম অভিষেক দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়ে গেল। এদিন সৌরভদের চিঠিতে ক্রীড়া মন্ত্রীকে ১৪০ জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি একটি বড় চিঠিতে লেখা হয়,, ‘‘প্রাক্তন সভাপতি তাঁর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জনসমক্ষে একটি খোলা চিঠি প্রচার করেছেন। ওই চিঠিতে দুর্নীতি, অবক্ষয় এবং দল নির্বাচনের সততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুটবল, হকি-সহ ময়দানের বৃহত্তর বিষয়গুলি আমাদের এক্তিয়ারের বাইরে। কিন্তু আমরা লোধা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাগুলি আপনার নজরে আনতে চাই।ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং প্রতিটি রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই বাধ্যবাধকতা মেনেই চলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্য সংস্থা ওমবাডসম্যান এবং এথিক্স অফিসারের একটি স্বাধীন দফতরের অধীনে কাজ করে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিএবি-ও এই ভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। গত দু’বছর ধরে ক্যালকাটা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য দু’টি দায়িত্বেই রয়েছেন। এই ফোরামে যে অভিযোগই আসে, তা আইনি মেনে নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এখানে পদাধিকারীদের কোনও রকম হস্তক্ষেপ থাকে না। যে কোনও ক্রিকেটার, কোচ, অভিভাবক বা প্রশাসক ওমবাডসম্যানের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য পেশ করার সুযোগ পান।গত ৩০ বছরে বিশ্বনাথ দত্ত, জগমোহন ডালমিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়া এবং স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়রা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবলু কোলে, বিশ্বরূপ দে ও বাবলু গঙ্গোপাধ্যায়েরা সচিব হয়েছেন। এত দিন পর্যন্ত সিএবি-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক চিঠিটির মাধ্যমে এমন একটি ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তাঁর নিজের মেয়াদকাল ছাড়া বাকি সকল প্রশাসকের সময়েই নানা অসঙ্গতি ছিল। সিএবি-তে এমন অনেক প্রশাসক রয়েছেন যাঁরা নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করছেন, এমনকী নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থও নিয়োগ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের ওপর ঢালাও অনিয়মের অভিযোগ আনা বাস্তব সত্যের বিকৃতি। এটি আশ্চর্যজনক। এটি তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছাকে অবমাননা করা। সিএবি-র কোনও প্রাক্তন সভাপতি বা সচিব এর আগে কখনও এই ধরণের খোলা চিঠি প্রকাশ করেননি। সিএবি-র প্রত্যেকে এতে বিস্মিত।এই ধরণের অভিযোগ এমন এক জন প্রাক্তন প্রশাসকের কাছ থেকে এসেছে, যিনি ২০২২ সাল পর্যন্ত সচিব এবং সভাপতি হিসেবে ছিলেন এবং যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে পরিচিত ছিলেন। উনি ২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিএবি-র কোনও অনিয়ম নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি। ফলে একটি পৃথক দুর্নীতিদমন হেল্পলাইনের দাবি সিএবি-র ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ওমবাডসম্যান ইতিমধ্যেই সাংবিধানিক ভাবে এই বিষয়গুলি পরিচালনা করছেন। আমরা আপনার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব এই ধরণের হটলাইন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করুন।’’ সূত্রের খবর আগামী আগামী জুলাই মাসে সি এ বির যুগ্ম সচিব নির্বাচন তার দামামা যে বেজে গেলো বলাই যায়।