দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা বিধানসভার আবাদ গঙ্গাধরপুরের ৭ নম্বর বুথে বার্ধক্য ভাতা বন্ধ থাকা নিয়ে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন না এলাকার বহু বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সুপারিশেই তাঁদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ গান্ধীবালা নাইয়া নামে এক বৃদ্ধাকে ঘিরে। পরিবারের দাবি, ৮০ বছরের গান্ধীবালা জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে তাঁর নাম ‘মৃত’ ব্যক্তিদের তালিকায় ঢুকে গিয়েছে। বিষয়টি জানতে ছেলেকে নিয়ে বিডিও অফিসে গেলে তাঁরা এই তথ্য জানতে পারেন। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, জীবিত একজন মানুষের নাম কীভাবে মৃতের তালিকায় গেল? শুধু গান্ধীবালা নন, এলাকার আরও বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বন্ধ বলে অভিযোগ।পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিডিও অফিসে গেলেও কোনও সমাধান হয়নি।
এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৮০ বছরের গান্ধীবালা। তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, ”কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিলেন, তিনি মরে নাই — সেইভাবে কি আমাকেও প্রমাণ করতে হবে যে আমি বেঁচে আছি?” এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক গাফিলতি না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, যার জেরে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। তবে পরিবারগুলির একটাই দাবি, প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে নথি খতিয়ে দেখুক এবং যোগ্য জীবিত ব্যক্তিদের দ্রুত ভাতা চালু করুক। জীবিত মানুষ কীভাবে মৃতের তালিকায় গেল, তারও জবাব চাইছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, “রাজনৈতিক কারণে যাঁরা ইতিপূর্বে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা আমাদের কাছে এলে সত্যতা যাচাই করে পুনরায় ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”