ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে ভোটপর্বের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন এখনও কিছুটা সময় দূরে থাকলেও, কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনিক স্তরে জল্পনা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে বহু দফায় ভোট হওয়ার রেওয়াজ চলে আসছে। নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিতকরণ এই সব কারণ দেখিয়ে আগের নির্বাচনগুলিতে সাত থেকে আট দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে বাংলায়।
তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই ছবি বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্য নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাংশ আধিকারিকের মতে, এত বেশি দফায় ভোট করালে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ে, পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখতে হয়, যা বাস্তবে নানা সমস্যার জন্ম দেয়। তাদের যুক্তি, বহু দফায় ভোট হলেও অতীতে অশান্তি বা অভিযোগ পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কম দফায় ভোটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে।
এই প্রশ্নে বিজেপির অবস্থানও স্পষ্ট বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মত, দুই বা তিন দফায় ভোট হলে তা পরিচালনাগত দিক থেকে অনেক বেশি কার্যকর হবে। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী প্রচার অভিযানের চাপ কমবে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে একাধিক জেলায় বারবার স্থানান্তরের প্রয়োজনও পড়বে না। দলীয় কর্মী ও সংগঠনের উপর যে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাও কিছুটা লাঘব হবে বলে বিজেপির দাবি।
নির্বাচন কমিশনের রাজ্য স্তরের কর্তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, প্রশাসনিক মহলে এই বিষয়ে আলোচনা যে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট। ভোটপর্বের সংখ্যা কম হলে ভোটগ্রহণ এবং গণনার মধ্যে সময়ের ব্যবধানও কমবে, ফলে ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর অনিশ্চয়তা ও টানাপোড়েন কমতে পারে।
অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও প্রকাশ্যে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অতীতে বহু দফার ভোট নিয়ে তারা নানা সময়ে আপত্তি তুলেছে। তবে এবার ভোটপর্ব কমানো হলে সেই সিদ্ধান্তকে তারা কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। শাসক দলের একাংশ মনে করছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির প্রাথমিক পর্বেই ভোটপর্বের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কত দফায় ভোট করাবে, তার উপর নির্ভর করবে গোটা নির্বাচনী সময়সূচি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল। রাজনীতির ময়দানে তাই এখন থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে।