ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে ভোট দামামা বাজতে চলেছে। তাঁর আগে এসআইআর নিয়ে জোর কদমে চর্চা চলছে। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকায় নাম আছে না নেই, থাকলেও ভুল ঠিক সমস্ত বিষয়বস্তু কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে এপিক নম্বর দিয়ে তা জেনে নেওয়া যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক ভাবে গোটা রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। বৈঠকে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাবে না, প্রয়োজনে হবে দ্বিতীয় শুনানি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল কিন্তু ওঠেনি, এমন ভোটাররা প্রথমে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। দ্বিতীয় অভিযোগ করা যাবে সরাসরি সিইও দফতরে। বৈঠকে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান ‘‘যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁদের তার কারণ জানানো হবে। যোগ্য সব ভোটারের নাম থাকবে। কারও নাম বাদ যাবে না।’’ সেই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণে প্রথম বার শুনানিতে অংশ না নেওয়া গেলে। দ্বিতীয় বার সুযোগ দেওয়া হবে। বুধবার থেকেই শুনানির নোটিস দেওয়া হবে। শুনানিপর্বের জন্য ২৮০০ অতিরিক্ত ইআরও (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) নিয়োগ করা হবে। প্রকৃত ভোটারদের সকলের নাম তালিকায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হুগলির কাউন্সিলর বাদ যাওয়ার ঘটনায় ডিইও-র কাছে রিপোর্ট চেয়েছি। ইচ্ছাকৃত ভাবে হলে বিএলও-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।’’
সূত্রের খবর, সদ্য প্রকাশিত খসড়া তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম। মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া, নিখোঁজ বা ভুয়ো ভোটার এবং যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, শুধুমাত্র তাঁদের নাম নেই। এই সংখ্যাটি হল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন।কমিশনের হিসাব নিকাশে, ওই ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের মধ্যে মৃত ভোটার রয়েছেন ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২ জন। ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৯ জন নিখোঁজ ভোটার। এবং ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন স্থানান্তরিত ভোটারন। ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৮ জন ভুয়ো ভোটার।আর ৫৭হাজার ৬০৪ জন ফর্ম পূরণ করেননি।
সূত্রের খবর, ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম ছিল, তারা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়বে। এমন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না-থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রোজেনি ম্যাপিং তালিকায় রয়েছেন। রাজ্যে তেমন ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। এ ছাড়া, ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত।
পাশাপাশি আরও দেড় কোটির বেশি ভোটারের এনুমারেশন ফর্মের তথ্য সন্দেহজনক মনে হয়েছে কমিশনের। কোথাও নামের গণ্ডগোল, কোথাও বয়সের ফারাক কম বা বিস্তর। কোথাও আবার ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার চেয়ে ভোটার ৪০ বছরেরও ছোট নয়। মাঝে এক প্রজন্ম ব্যবধানের পরেও বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম।এমন সন্দেহজনক তথ্য ওই ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুনরায় যাচাই করবেন বিএলও-রা। তাতেও যদি কোনও সমস্যা বা এই প্রক্রিয়া সন্তোষজনক না হলে ভোটারকে ডাকা হবে শুনানির জন্য।
