ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতির বাজারে এবার সরাসরি এন্ট্রি ইলন মাস্কের। নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার কথা ঘোষণা করলেন টেসলা ও স্পেসএক্স কর্তা ইলন মাস্ক। ‘অ্যামেরিকা পার্টি’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের ঘোষণা করে মাস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকায় দু’দলীয় ‘ইউনিপার্টি’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই তাঁর এই উদ্যোগ। সম্প্রতি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বড়সড় দূরত্ব তৈরি হওয়ার পরই মাস্কের এই নতুন দলের জন্ম। আমেরিকার বিপুল ঋণ, সরকারে অপচয় ও খরচ নিয়ে অতীতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ঋণবর্ধক বিলের বিরোধিতা করে মাস্ক স্পষ্ট বলেন, তিনি এমন রিপাবলিকান প্রার্থীকে আর সমর্থন করবেন না, তাই ‘অ্যামেরিকা পার্টি’র মূল লক্ষ্যই হবে বিপুল ঋণ ও বাজেটের অপচয়ের বিরুদ্ধে লড়াই।
মাস্কের দাবি, তাঁর এক্স প্ল্যাটফর্মে করা এক ভোটে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মানুষই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প চান। তাঁর যুক্তি, এখনকার দুই দলই জনগণকে বিভক্ত করছে, কিন্তু আর্থিক শৃঙ্খলা বা সরকারি দায়বদ্ধতার দিকটা অবহেলা করছে। তাই ছোট পরিসরে হলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে চান মাস্ক। তাঁর কৌশল, অন্তত দুই-তিনটি সেনেট আসন এবং আট-দশটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস আসনে জেতার চেষ্টা করবে তাঁর দল। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস বা বাতিল করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতায় তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের উদ্যোগ একদম সহজ হবে না। মার্কিন রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা নতুন নয়। দীর্ঘমেয়াদে কেউই সফল হয়নি সেভাবে। রাজ্যে রাজ্যে দল গঠনের আইনি প্রক্রিয়া, প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী তহবিলের হিসাবনিকাশ সবই বিরাট চ্যালেঞ্জ মাস্কের সামনে। যদিও মাস্কের বিপুল সম্পদ ও প্রভাব তাঁকে প্রাথমিকভাবে অতীতের অন্যদের চেয়ে অনেকেটা এগিয়ে রাখছে। মাস্ক অবশ্য নিজের অর্থনৈতিক শক্তি নিয়েই আত্মবিশ্বাসী।
একদিকে যখন ট্রাম্প তাঁকে ‘মিথ্যা প্রচারক’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তখন মাস্ক পাল্টা বলেছেন, দেশকে আর ঋণের ফাঁদে পড়তে দেবেন না। তিনি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেসব রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের ঋণবর্ধক প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রচারে নামবেন তিনি। মাস্কের এই নতুন দলের পিছনে রয়েছে একটি সুপার প্যাকও। এর আগে তিনি বিপুল অর্থ দিয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছিলেন। এবার সেই অর্থ রাজনীতির অন্য ছকে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য মাস্ককে সমর্থন তো করছেই না বরং ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মাস্কের ব্যবসা নিয়ে নতুন করে তদন্ত হতে পারে।
