ওঙ্কার ডেস্ক: ‘রহে না রহে হাম……..’ সেই গান শুনলে যেন এখনও গায়ে কাঁটা দেয় দর্শকদের। প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ৯০তম জন্মদিন উদযাপনের আগেই সব জল্পনা অবসান করে চিরতরে চলে গেলেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’। ছ’দশকের রাজত্বে তিনশোরও বেশি ছবি অভিনেতার। পাঞ্জাবের মানসপুত্রের প্রয়াণে এক সোনালি যুগের ইতি।
১১ নভেম্বর, ২০২৫ আচমকাই সোশাল মিডিয়া উত্তাল হয় ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুগুঞ্জনে। তবে পরিবারের তরফে সেই গুঞ্জন নস্যাৎ করে কিংবদন্তি অভিনেতা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। তেরো দিনের ব্যবধানে সোমবার দুপুরে ভিলে পার্লে শ্মশানে আচমকাই দেওল পরিবারের সদস্য এবং অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, সলমন খানদের উপস্থিতি যেন ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুশঙ্কায় দানা বাঁধে! এককথায় ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে চূড়ান্ত শঙ্কা তৈরি হয়। এমতাবস্থায় দেওল পরিবারের সদস্যরা মুখ না খুললেও শোকপ্রকাশ করেন করণ জোহর, নীতিন গড়করিসহ একাধিক ব্যক্তিত্ব। জল্পনায় সিলমোহর বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তায়। অমিতাভ বচ্চন, সলমন খান, আমির খান, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় কুমার, গৌরী খান, শাবানা আজমি, দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংহসহ অনেকেই পৌঁছন শেষকৃত্যের কাজে।
পঞ্জাবের এক সাদামাঠা ছেলে ছিলেন ধর্মেন্দ্র, যার সবচেয়ে বড় মূলধন ছিল স্বপ্ন আর কয়েকশো সাদা–কালো ছবি। সেই ছবিগুলোই একসময় বদলে দিয়েছিল তাঁর ভাগ্য। লুধিয়ানার ছোট্ট শহর থেকে অভিনয়ের প্রতি টানই তাঁকে টেনে এনেছিল মুম্বই শহরে। হিন্দিতে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে সব থেকে বেশি সংখ্যায় অভিনয় করেছেন হেমা মালিনী। ধর্মেন্দ্র-হেমা জুটির ছবির সংখ্যা ৪৫। জয়া প্রদা, অনিতা রাজ, রেখা, জিনত আমন, রীনা রায়, সায়রা বানু, শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, মীনা কুমারী, মালা সিনহা, ওয়াহিদা রহমান, নূতন, তনুজা, নীতু সিং এবং পরভিন ববির সঙ্গে একাধিক ছবি করেছেন অভিনেতা। এছাড়াও বাদ যায়নি বাংলাও সুচিত্রা সেনও, লিলি চক্রবর্তী, সুপ্রিয়াদেবীও ধর্মেন্দ্রর ছবির সঙ্গী হয়েছেন।
১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’র মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। তারপর একে একে ‘ফুল অউর পাত্থর, ‘অনুপমা’, ‘বন্দিনী’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘শোলে’, ‘দোস্ত’, ‘জুগনু’— একের পর এক ছবিতে তিনি যেন নিজের প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন যেমন জয় করেছেন, তেমনই পুরস্কার পেয়েছেন অগণিত। জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের জন্য। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করে। নব্বইয়ের দোরগোড়ায় এসেও করেছেন একের পর ছবি ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘আপনে’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’ সদ্য প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অভিনিত ছবি ইক্কিস’এর পোস্টার।
জন্মদিনের ডবল সেলিব্রেশনের আগেই সকলকে ছেড়ে শান্তির পথে ধর্মেন্দ্র। পরিবারের সকল সদ্যসসহ বহু সহকর্মী জানিয়েছেন শোকবার্তা। ভিড় জমিয়েছেন অনুরাগীরাও।
