ওঙ্কার ডেস্ক : প্রায় ১২,০০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন ও ওমানের দিকে ঘন ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। ছাই ঢাকা মেঘটি এখন উত্তর আরব সাগরের উপর ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ইথিওপিয়ায় আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার জন্য বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান বন্দরগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ ছাইয়ের মেঘ এখন উত্তর ভারতের উপর দিয়ে যাচ্ছে।
ছাই ভরা মেঘের ঘনীভূত অংশগুলি দিল্লি, হরিয়ানা এবং সংলগ্ন উত্তর প্রদেশ অঞ্চলের উপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। এর ফলে বাতাসের মান কমে যেতে পারে। তবে, ছাইয়ের মেঘগুলি বায়ুমণ্ডলে হাজার হাজার ফুট উপরে থাকায় এর সম্ভাবনা কম। তবু বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা নেওয়া হয়েছে। আকাসা এয়ার, ইন্ডিগো এবং কেএলএম-এর মতো বিমান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে ওই রুটে তাদের উড়ান বন্ধ রেখেছে। অসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) বিমান সংস্থাগুলিকে ছাই-প্রভাবিত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিমান সংস্থাগুলিকে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতার অসঙ্গতি, কেবিনের ধোঁয়া বা দুর্গন্ধ সহ সন্দেহজনক ছাইয়ের উপস্থিতির বিষয়ে অবিলম্বে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। যদি আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানবন্দরের কাজকে প্রভাবিত করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে অবিলম্বে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং অ্যাপ্রোন পরিদর্শন করতে হবে বলে ডিজিসিএ জানিয়েছে।
অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের সম্পর্কে পরিস্থিতি লাগাতার পর্যবেক্ষণ করে চলে। এক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে আপডেট থাকতে বলা হয়েছে। আকাসা এয়ার জানিয়েছে, “ছাইয়ের মেঘের কারণে ২৪ এবং ২৫ নভেম্বর জেদ্দা, কুয়েত এবং আবুধাবিতে নির্ধারিত ফ্লাইটগুলি বাতিল করা হয়েছে।”

কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্স ছাইয়ের মেঘের কারণে তাদের আমস্টারডাম-দিল্লি পরিষেবা (কেএল ৮৭১) এবং দিল্লি-আমস্টারডাম ফিরতি ফ্লাইট (কেএল ৮৭২) বাতিল করেছে। ইন্ডিগো, এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছে, “ইথিওপিয়ায় হাইলিগাব্বি আগ্নেয়গিরির সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের পর ছাইয়ের মেঘ পশ্চিম ভারতের কিছু অংশের দিকে ভেসে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আমরা বুঝতে পারি যে এই ধরনের খবর উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং আমরা আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আপনার নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
রবিবার সকালে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী আফদেরা গ্রাম ধুলোয় ঢেকে যায়। আফার টিভির মতে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এর্তা আলে এবং আফদেরা শহরের আশেপাশের এলাকায় মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় এর্তা আলে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
