শীতকাল মানেই নানা রঙের মরসুমি ফুলে বাগান ও বাড়ির ছাদ সেজে ওঠার সময়। গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, প্যানসি, ভার্বিনা, ক্যালেন্ডুলা, জিনিয়া-সহ বিভিন্ন ফুল এই সময়ে খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। তবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ফুল পেতে শুধু গাছ লাগালেই হয় না। সঠিক মাটি, পর্যাপ্ত আলো, নিয়মিত জল দেওয়া এবং উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাটি ও জৈব সার
মরসুমি ফুলের জন্য মাটি হওয়া উচিত ঝুরঝুরে । টবের মাটির সঙ্গে পচা গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। সাধারণভাবে মাটির উর্বরতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরষের খৈলও ফুলের গাছের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে খৈল সরাসরি বেশি পরিমাণে গাছের গোড়ায় না দিয়ে জলে ভিজিয়ে পাতলা করে ব্যবহার করা নিরাপদ। সাধারণত কয়েক সপ্তাহ অন্তর প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব তরল সার দেওয়া যেতে পারে।
ফুল ও কুঁড়ির জন্য সার
গাছ বড় হওয়ার পর ফুল ও কুঁড়ি বাড়ানোর জন্য সুষম NPK সার ব্যবহার করা যায়। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধিতে বেশি সাহায্য করে। অন্যদিকে ফসফরাস শিকড় ও ফুলের বিকাশে এবং পটাশ গাছের সামগ্রিক শক্তি ও ফুলের গুণমান বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
তবে বেশি সার দিলেই বেশি ফুল হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত সার গাছের শিকড় পুড়িয়ে দিতে পারে এবং পাতার বৃদ্ধি হলেও ফুল কম হতে পারে।
কীটপোকার আক্রমণ
শীতের মরসুমি ফুলে জাবপোকা, থ্রিপস, সাদা মাছি, মিলিবাগ ও বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকড়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পাতার নিচে ও কচি ডগায় নিয়মিত নজর রাখা দরকার। প্রথম দিকে পোকা দেখা দিলে আক্রান্ত পাতা বা ডগা সরিয়ে ফেলা এবং গাছ পরিষ্কার রাখা বেশ কার্যকর।
রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের আগে নিমভিত্তিক কীটনাশক বা নিম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিম তেলও সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। রোদে বা প্রচণ্ড গরমের সময় স্প্রে না করে সকাল বা বিকেলের দিকে স্প্রে করা ভালো। গাছের পাতার নিচের অংশেও স্প্রে পৌঁছানো জরুরি। পোকার আক্রমণ বেশি হলে উদ্ভিদের নির্দিষ্ট রোগ বা পোকার ধরন শনাক্ত করে অনুমোদিত কীটনাশক নির্বাচন করা উচিত।
পরিচর্যার অন্যান্য দিক
শুধু সার ও কীটনাশক দিলেই ভালো ফুল পাওয়া যায় না। অধিকাংশ শীতকালীন ফুলের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক দরকার। টবের মাটি শুকিয়ে গেলে জল দিতে হবে, কিন্তু টবে জল জমতে দেওয়া যাবে না। শুকিয়ে যাওয়া ফুল নিয়মিত তুলে ফেললে অনেক গাছে নতুন কুঁড়ি আসতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শুকনো পাতা ও আক্রান্ত ডাল সরিয়ে রাখলে রোগ-পোকার বিস্তার কমে।