অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ১১ বছরের পবন যাদবের মৃত্যু রহস্যে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভুল ইঞ্জেকশনে নয়, বহু দিন ধরে ক্ষুদ্রান্ত্র ফুটো হয়েই সেপসিসে মৃত্যু হয়েছে বালকের। যদিও ছেলের এই জটিল শারীরিক অবস্থার কথা জানা ছিল না পরিবারের।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পুলিশের কাছে এসেছে। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের দাবি, রিপোর্টে পরিষ্কার লেখা আছে মৃত্যুর কারণ ইনটেস্টাইন পারফোরেশন। ক্ষুদ্রান্ত্র ফুটো হয়ে পেটের ভিতরে প্রচুর পুঁজ জমেছিল। অন্তত ৪-৫ দিন আগে থেকেই ছিদ্র তৈরি হয়েছিল বলে অনুমান চিকিৎসকদের। সেই সংক্রমণ থেকেই শকে চলে যায় পবন।
হাসপাতালের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও একই সুরে রিপোর্ট দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাকেশ মণ্ডলের নেতৃত্বে কমিটি গঠন হয়েছিল। তাদের দাবি, পবনকে যে ব্যাচের ড্রটিন ও র্যান্টাক আইএম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, একই ব্যাচ অন্য রোগীদের শরীরেও গিয়েছে। তাদের কারও কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। তাই ভুল ওষুধের তত্ত্ব টিকছে না।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রবিবার সকাল ১০টায় পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শিশু বিভাগে এসেছিল পবন। দু-তিন দিনের জ্বরও ছিল। পরিবারের অভিযোগ, প্রথম ইঞ্জেকশনের পরও ঠিক ছিল, দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লুটিয়ে পড়ে সে। যদি ৪-৫ দিন আগেই ক্ষুদ্রান্ত্র ফুটো হয়ে থাকে, তাহলে সে হেঁটে এল কীভাবে? কেন আগে ধরা পড়ল না?
পরিবারের দাবি, পবনের খাওয়াদাওয়ায় কোনও সমস্যা ছিল না, আগে কখনও এমন পেটের রোগও হয়নি। ছেলের মৃত্যুর পর বাবা নরেশ যাদব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তারা এখনও ময়নাতদন্তের কাগজ হাতে পাননি।
হাসপাতালের একাংশের বক্তব্য, খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্ষুদ্রান্ত্র দুর্বল হয়ে ফুটো হতে পারে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। ভুল ইঞ্জেকশন না পুরনো রোগ, কোনটা কেড়ে নিল ১১ বছরের প্রাণ, তা নিয়ে সন্দেহ কাটছে না।