ওঙ্কার ডেস্ক : জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রাম ও গান্ধী বিরোধ। তাই বিজেপি ও কংগ্রেসের এই যুদ্ধে অস্ত্র হয়ে উঠেছে জি রাম জি ও মনরেগা। ২০ বছরের পুরোনো কর্মসংস্থান প্রকল্পের জায়গায় মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে সেই জায়গায় রামকে আনার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আওয়াজ তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
গত মাসে বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে বিলটি পেশ করার সময় বিজেপি নেতৃত্বের মুখে গান্ধী সমালোচিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। দলের নেতা রাহুল গান্ধীও পালটা হিসেবে জানিয়ে দেন ‘জয় রাম জি’ কি তা তিনি জানেন না। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মুখেও রাহুলের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনকে তুলে ধরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন তিনি বলেছিলেন, “আমি জানি না “জি-রাম-জি কী !” কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার মন্তব্যকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় হিন্দুত্বের রাজনীতি। যা ‘ভোট চুরি’ ইস্যুর পালটা হিসেবে বিজেপি তুলে ধরতে চাইছে।
বিজেপির তরফে বলা হয়, এটা কংগ্রেসের হিন্দু বিরোধী মানসিকতার প্রকাশ। এর আগে, দিল্লির জওহর ভবনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “মনরেগা প্রতিটি দরিদ্র ব্যক্তিকে কর্মসংস্থানের অধিকার দিয়েছে… যা (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র) মোদী বাতিল করতে চান।” এর আগে মূলত রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের আনা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি ঘনীভূত হয়ে ওঠায় পরে কেন্দ্র তা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০২০ সালের সেই ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবারও ‘জি রাম জি’-র বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে কংগ্রেস। রাহুল তাই বলছেন, “কৃষকরা সরকারকে কঠোর কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়েছিলেন… (এখন) যদি আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই তবে মোদীজি পিছু হটবেন এবং মনরেগা পুনরায় চালু করা হবে।” এদিকে, খাড়গে এটিকে বিজেপির মহাত্মা গান্ধীর নাম জনসাধারণের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে কংগ্রেস বাজেট অধিবেশনের সময় আবারও সংসদে এই বিষয়টি তুলবে।
রাহুল গান্ধী এবং খাড়গে এই মন্তব্য করেছেন যখন বিরোধীরা বিজেপির উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। অন্তত দুটি রাজ্য- কর্ণাটক, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে এবং তামিলনাড়ু, যেখানে ভারতের সদস্য ডিএমকে ক্ষমতায় রয়েছে। উভয়ই মনরেগা সমর্থনে প্রস্তাব পাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সেই প্রসঙ্গে, বৃহস্পতিবার সকালে কর্ণাটক বিধানসভায় রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট রাজ্য সরকারের তৈরি বক্তৃতা পড়তে অস্বীকার করায় চুড়ান্ত হৈ-হট্টগোল শুরু হয়। জানা গেছে ওই বক্তৃতার বয়ানে ‘জি রাম জি’ প্রকল্পের সমালোচনা ছিল। এদিকে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বলেছেন যে তাঁর সরকার এই ধরনের একটি প্রস্তাবও তুলবে।
