নিজস্ব প্রতিনিধি, ঘাটাল: এখনও চলাচলের জন্য ভরসা বাঁশের সেতু। সেই সেতুর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। শুধু পড়ুয়ারা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বড় অংশের মানুষের ভরসা আজও ‘পারাং’ নদীর উপর তৈরি বাঁশের সেতু। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল এটি সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের গ্রাম। বর্ষাকালে বানভাসি হয় ঘাটাল। তার উপরে বছরের বাকি সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে যাতায়াতের ফলে ভোগান্তিতে ঘাটালবাসী।
ছাত্র জীবনের দ্বিতীয় বড় পরীক্ষা উচ্চ মাধ্যমিক। পরীক্ষায় পড়ার চাপ ও টেনশন তো থাকেই, সেই সঙ্গে ঘাটালের পড়ুয়াদের জীবনে জুড়েছে নতুন সমস্যা। বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পারাপারের জন্য দুঃশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের লোকজন। পারাং নদীর উপর দিয়ে গ্রামের মানুষের বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সেতু দিয়েই ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রাম। মহিষদা রামনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় এর উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে আন্দিচক উচ্চ বিদ্যালয়ে। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বাঁশের সেতুই এখন ভরসা।
বাম সরকার ও তৃণমূল সরকার মিলিয়ে প্রায় ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে এইভাবেই গ্রামের মানুষজন পারাপার করে আসছেন। ছাত্রছাত্রীরা জানাচ্ছে, গ্রামের ছেলে সাংসদ হলেও তাদেরকে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে। এই নদীতে সেতু প্রয়োজন, আমরা না যেতে পারলেও, আমাদের পরবর্তী ব্যাচের ছেলে মেয়েরা যাতে নিরাপদে সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা দিতে যেতে পারে।
নদীর এক প্রান্তে ১০ কেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসগেড়িয়া গ্রাম অন্য প্রান্তে রয়েছে ১২ নম্বর সরিষাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুদমিচক গ্রাম। পাশাপাশি প্রায় ৯-১০ টি গ্রামের মানুষের যাওয়ার একটাই রাস্তা। অন্যত্র ঘুরে যেতে গেলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ বেশি যেতে হবে। কুদমিচক গ্রামের মানুষদের চিকিৎসার জন্য কেশপুর হাসপাতালে যাওয়া বা ব্লক উন্নয়ন অফিসে যাওয়ার প্রধান রাস্তা এটি। এভাবেই বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপার করে রোগীদের কেউ নিয়ে যেতে হয় চিকিৎসার জন্য।
