ওঙ্কার ডেস্কঃ শেখ হাসিনার বিদায়ের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মহম্মদ ইউনূসের প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। ১৭ মাস সুযোগ পেয়েও তিনি তা করে দেখাতে পারলেন না। উলটে তারেক সরকারের উপর চাপিয়ে গেলেন ঋণের বোঝা। ড. মহম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পান অর্থনীতির বৈষম্য ঘোচানোর জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র ঘোচাতে পারলেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লক্ষ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ব্যাংকিং উৎস থেকে ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা নিয়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ওই সময়ে আরও প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩০ লক্ষ নতুন দরিদ্র্য হয়েছে ড. ইউনুসের আমলে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২.৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১.৫ পয়েন্ট পতনের বিষয়টি চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।
সূত্রের খবর, ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৮.৫ শতাংশ। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ মজুরি বাড়ার হারের চেয়ে মূল্যবৃদ্ধির হার এখনও বেশি। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। অর্থনীতির সব দিক দিয়ে যখন বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয়, তখন বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটে। ছাত্রদের ডাকে সাড়া দিয়ে ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড, ইউনূস। বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, তিনি একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অথচ তাঁর সময়ে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিদেশি আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী।ব্যবসা বাণিজ্যে ছিল আস্থার সংকট। শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী।