নিজস্ব সংবাদদাতা : এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগে রবিবার কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মোহাম্মদ জসীমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এর ফলে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে কলকাতা পুরসভার মোট আটজন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেন।
জসীমউদ্দিন মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। বিকেলে তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোর থেকেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়ি ঘিরে ছিল। অভিযোগ, তৃণমূল নেতা দরজা খুলছিলেন না এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিশ বাইরে থেকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জসীমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
এই পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। তাঁর অনুগামীরা বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে তাহে। অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকরাও বিক্ষোভে সামিল হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কাউন্সিলরের দিকে ডিম ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র একাধিক ধারায় জসীমউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে এলাকায় এক নাবালিকাকে হয়রানির ঘটনায় জসীমউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জড়িত ছিল। সেই নাবালিকা এখন কলেজের ছাত্রী। শনিবার কলাবাগান এলাকায় তাকে ফের হেনস্থা করা হয়, পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জোড়াসাঁকো থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার রাতে এই ঘটনায় জসীমউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাউন্সিলরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে।
রবিবার সকাল ৬টার মধ্যে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ জসীমউদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছোয়। বাইর থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী । জানা যায়, সেসময় বাড়ির গেট ভেতর থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশের ডাক সত্ত্বেও কেউ দরজা খোলেনি। দুপুর নাগাদ ঘটনাস্থলে একজন চাবি প্রস্তুতকারককে ডাকা হয়। এরপর দরজা খুলে কাউন্সিলরকে বাইরে আনা হয়। ততক্ষণে বাইরে বহু লোকের ভিড়। তাদের মধ্যে কাউন্সিলরের অনুগামীদের পাশাপাশি বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরাও ছিলেন। জসীমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে জসীমউদ্দিন সিপিএম-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তৃণমূলের টিকিটে পরপর দুটি নির্বাচনে জয়ী হন। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তের সহযোগী ছিলেন।।