ওঙ্কার ডেস্ক: যে বিছানায় একসঙ্গে চলত খুনসুটি যে ঘরে একসঙ্গে করত খেলাধুলা সেই প্রাণের বন্ধুকে খুন করলো তাঁরই বন্ধু। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আবাসিক স্কুলে। তদন্তে নেমে স্কুলেরই নবম শ্রেণির দুই নাবালিকা ছাত্রীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযোগ, সাত বছরের শিশুটিকে প্রথমে বালতির জলে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়, পরে হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়। ধৃত দুই কিশোরীকে রবিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের আদালতে তোলা হয়েছে।মৃত শিশুটি ওই আবাসিক বিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকত। অভিযুক্ত দুই নাবালিকা একই হস্টেলের আবাসিক। শুধু তাই নয়, তারা শিশুটির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল এবং একই বিছানায় ঘুমাত বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই এই ঘটনা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
তদন্ত কারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুই নাবালিকাকেও। সেই সময় তাদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে নিয়ম মেনে দু’জনকে আলাদা করে জেরা করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। পুলিশ দাবি করেছে, জেরার মুখে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরপরই তাদের গ্রেফতার করা হয়। অপর দিকে এই হাড়হিম করা ঘটনার প্রমাণ দেখাচ্ছে কিভাবে ছোটদের মধ্যে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতার চিন্তা। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, এক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তের ভিত্তিতে দুই নাবালিকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খুনের মামলা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, অভিযুক্তরা হস্টেল থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিল। তাদের ধারণা ছিল, এমন ঘটনা ঘটলে হয়তো হস্টেল থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তবে তদন্তকারীরা এখনও কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না। এই ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, মানসিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এইদিকে, মৃত শিশুটির পরিবারের দাবি, গরমের ছুটির সময়ে একমাত্র মেয়েকে স্কুলে রেখে এসেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা ঘটে যাবে তা তাঁরা কেউ বুঝতে পারেনি।