তাপস মহাপাত্র
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, দিল্লির কন্সটিটিউশন ক্লাবে সোমবার বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ২৩টি রাজনৈতিক দল। সেইসঙ্গে তিনি জানান, মোদী সরকারের “নীতি ও কর্মকাণ্ডের” তীব্র বিরোধিতা করা সত্বেও কিছু দল অবশ্য তাদের নিজস্ব কারণে আসতে পারবে না বলেও জানিয়েছে। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ড ও নীতিগুলি “লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, ক্রমাগত সংবিধানের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থা ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের টার্গেট করছে।”
বিরোধী জোটের অভিযোগের দীর্ঘ তালিকায় তিনি আরও কিছু বিষয় যোগ করেছেন, যেমন— “জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করা, ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে গৃহস্থে অচলাবস্থা তৈরি করা, লক্ষ লক্ষ যুবকের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করা এবং তাদের বিদেশনীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা।” কংগ্রেস নেতা বলেন, “স্বয়ং ভারতের মতোই, ‘ইন্ডিয়া’ জোট তার বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ।”
যারা এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না তাদের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর ডিএমকে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দিল্লির আম আদমি পার্টি। তামিলনাড়ুতে বিজয়ের টিভিকে-র সঙ্গে কংগ্রেস জোট গড়ায় ক্ষুব্ধ স্ট্যালিনের ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয়েছে যে ডিএমকে লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের কাছে পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে, যা মঞ্জুরও করা হয়েছে।
এবার ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক একটি নিরপেক্ষ স্থানে হচ্ছে। এর আগের দুটি বৈঠক কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের সাংসদ রাহুল গান্ধীর বাড়িতে হয়েছিল। সোমবার এই বৈঠক তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর অনুরোধে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই এতে অংশ নিতে দিল্লি পৌঁচেছেন। এখন যা পরিস্থিতি তাতে বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে তাঁর ‘ইন্ডিয়া ব্লক’ এবং বিশেষ করে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন।
জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা কোনো বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চান না, যদিও বাংলায় দুটি আসনে উপনির্বাচন হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম আসন এবং হুমায়ুন কবীরের রেজিনাগর আসন। তা সত্ত্বেও, মমতা ব্যানার্জী যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে যেকোনো তৃণমূল বিধায়ক তাঁর জন্য নিজের আসন ছেড়ে দিতে পারেন। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে যে তিনি বিধানসভায় আগ্রহী নন কারণ তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। হাজী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া বসিরহাট লোকসভা আসনে একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এটি সেই একই নির্বাচনী এলাকা যেখান থেকে নুসরাত জাহান ২০১৯ সালে জয়ী হয়েছিলেন।
বসিরহাট আসনে জিততে মমতার কংগ্রেসের সাহায্য অবশ্যম্ভাবী। তিনি প্রকাশ্যে বাম দলগুলোর সমর্থন নিতে না পারলেও, কংগ্রেসের সাহায্য অবশ্যই চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়া’ জোট সহায়ক হতে পারে। বসিরহাট একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী এলাকা যেখানে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ৫৫ শতাংশের বেশি। এক্ষেত্রে মমতার কাছে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হওয়ার আরেকটি কারণ। এমনও জল্পনা রয়েছে যে কিছু তৃণমূল বিধায়ক কংগ্রেস দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যদিও রাহুল গান্ধী তাদের সঙ্গে আলোচনায় না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধীও এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন।
জয়রাম রমেশের ওই পোস্টের জবাবে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, “এক অভিন্ন উদ্দেশ্য এবং সুস্পষ্ট সংকল্প নিয়ে একটি বৈঠক – একতাবদ্ধ ভারত। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির চেতনায় চালিত হয়ে অনেক দলই এই বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছে।”