ওঙ্কার ডেস্ক: গুজরাটের সুরাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভূগর্ভস্থ বর্জ্য শোধনাগারের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্রমিকরা অচেতন হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সুরাটের একটি শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত কারখানায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজের অংশ হিসেবে শ্রমিকদের ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে নামানো হয়েছিল। প্রথমে এক শ্রমিক ট্যাঙ্কে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে আরও কয়েকজন শ্রমিক ট্যাঙ্কে নামেন। কিন্তু তাঁরাও একইভাবে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা চারজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্যাঙ্কের ভিতরে হাইড্রোজেন সালফাইড বা অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শ্রমিকদের ট্যাঙ্কে নামানোর আগে গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল কি না।
ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মানা হয় না। ফলে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে এবং শ্রমিকদের প্রাণহানি হচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ট্যাঙ্কের ভিতরের পরিবেশ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।