ওঙ্কার ডেস্ক: ভূগর্ভস্থ জলের ট্যাঙ্কে নেমেছিলেন ৪৪ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র বিস্ত। কিন্তু অনেক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি না উঠে আসায় নামেন তাঁর ভাই ৩৮ বছর বয়সী খুশল সিং বিস্ত। কিন্তু তিনিও না সাড়া দেওয়ায় অবশেষে দুই ছেলের খোঁজে ট্যাঙ্কে নামেন বৃদ্ধা মা। পরে তিন জনেরই দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার হালদওয়ানির গৌলাপার এলাকার মানপুর গ্রামে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের ফলে দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূগর্ভস্থ ওই জলের ট্যাঙ্কটি নির্মীয়মাণ। ধর্মেন্দ্র বিস্তের জমিতে সেটি তৈরি হচ্ছিল। ট্যাঙ্কে শাটারিং খোলার জন্য তিনি নেমেছিলেন। কিন্তু ভেতরে নামার পর জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেলেও ধর্মেন্দ্র বেরিয়ে না আসায় তাঁর ছোট ভাই খুশল সিং বিস্ত তাঁকে দেখতে ট্যাঙ্কের ভেতরে নামেন। সেখানে তিনিও জ্ঞান হারান। দুই ছেলের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে ৬৫ বছর বয়সী সরস্বতী দেবী ট্যাঙ্কে নামেন। তিনিও লুটিয়ে পড়েন সেখানে। পরিবারের অন্য সদস্যদের চিৎকারে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা ট্যাঙ্কের একটি অংশ ভেঙে সবাইকে বাইরে বের করে আনেন। তড়িঘড়ি তিন জনকে সুশীলা তিওয়ারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তিন জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গ্রামবাসীদের মতে, ট্যাঙ্কের কাছে থাকা একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস লিক করার কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে।
সুশীলা তিওয়ারি হাসপাতালের সুপার অরুণ জোশী জানান, বদ্ধ ট্যাঙ্কে প্রায়ই মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমা হয়, যার ফলে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তবে ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। হালদওয়ানির পুলিশ সুপার (শহর) মনোজ কাটিয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল সিল করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। ফরেনসিক দল সেখান থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।