অসীম সেন
জলবায়ু পরিবর্তন এবং একই সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে দ্রুত কমছে দেশের প্রাণস্বরূপ গঙ্গার জলপ্রবাহ। নদী-বিশেষজ্ঞদের হিসেব, প্রতি বছর গঙ্গার জলস্তর গড়ে ১.৫ থেকে ২ সেন্টিমিটার করে কমছে। গঙ্গা এমন ভাবে অস্তিত্বসঙ্কটে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যতও অত্যন্ত উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৩০০ বছরে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েনি গঙ্গা। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৮৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা এই নদীর উপরে নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মৌসুমি বায়ুর বিন্যাসে বদল, অতিরিক্ত জল উত্তোলন এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধ নির্মাণ, সব মিলিয়েই এই বিশাল নদী–ব্যবস্থা ক্রমশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। প্রভাব পড়ছে বিরাট একটা এলাকার খাদ্য উৎপাদন, পানীয় জল ও জীবিকার উপরে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়সীমা এই নদী অববাহিকার ইতিহাসে শুষ্কতম তিন দশক। নদীর জলস্তরে পরিবর্তনের ফলে ভারতে অতীতের বেশ কয়েকটি খরার সময়কাল সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬৯-১৭৭১-র মধ্যে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ ৭৬–এর মন্বন্তর নামে পরিচিত, সেই দুর্ভিক্ষ এবং চতুর্দশ শতকের কুখ্যাত কয়েকটি দুর্ভিক্ষও রয়েছে। তবে ১৯৯১–তে হঠাৎ করেই এই নদীর প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৬২০ ঘনমিটার কমে যায়।
গঙ্গার প্রবাহের এতটা অবনমন আগে কখনও হয়নি। গঙ্গার এমন অস্বাভাবিক ভাবে শুকিয়ে যাওয়ার বড় কারণ হল নদী অববাহিকায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের হ্রাস। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে স্থলভাগ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য এতটাই কমে গিয়েছে যে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কমেছে। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, জল সরবরাহ ও পরিবেশ–ব্যবস্থার উপরে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে এর কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।