ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রহস্যজনক হামলায় নিহত হয়েছে কাশ্মীরি জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ নেতা সাজ্জাদ আহমেদ খান। বহুদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে থাকা এই জঙ্গি নেতার মৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ইসলামাবাদের এক ব্যস্ত এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের গুলিতে মৃত্যু হয় সাজ্জাদের। হামলার পর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, ফলে এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সাজ্জাদ আহমেদ খান মূলত জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন আগে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর থেকেই সে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কাশ্মীর উপত্যকায় একাধিক নাশকতা, জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে হিজবুল মুজাহিদিনের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নতুন জঙ্গি নিয়োগে সে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিল।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাজ্জাদের মৃত্যু জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। কারণ পাকিস্তানে বসে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী জঙ্গি নেতৃত্বের মধ্যে সে ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতবিরোধী একাধিক জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ধারাবাহিক ঘটনায় অনেকেই মনে করছেন, জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গোষ্ঠীসংঘর্ষ অথবা আন্তর্জাতিক কৌশলগত চাপ এর পিছনে থাকতে পারে।
পাকিস্তানের মাটিতে এই ধরনের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার বরাবরের মতো এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে, তবু একের পর এক জঙ্গি নেতার মৃত্যু তাদের অবস্থানকে আরও চাপে ফেলছে। সাজ্জাদ আহমেদ খানের মৃত্যুর ফলে উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির ভবিষ্যৎ কৌশল কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।