ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম এ বোতামে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি। অবশেষে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ৩০ বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের জন্য সুপারিশ করলেন কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
কমিশন সূত্রের খবর, ফলতায় যে অভিযোগগুলি উঠে এসেছে তা খতিয়ে দেখার সময় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকে টেপ লাগিয়ে দেওয়া। অভিযোগ, ফলতার একাধিক বুথে ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কে সমস্যার কারণে সেই তথ্য কন্ট্রোল রুমে গিয়ে পৌঁছয়নি। টেপ মেরে প্রতীক ঢেকে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার দুপুর ১টা নাগাদ জানান, টেপ তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তত ক্ষণে ওই বুথে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে যায়। কমিশন ওই সমস্ত বুথে কড়া নজর রেখেছিল। কিন্তু কেবলমাত্র একটি দলকে ভোট দেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনও দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট গ্রহণ হলেও কোথাও থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। তবে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ মেটার পর এই পর্বের চার বিধানসভার ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে বিজেপি। কমিশন সূত্রের খবর, যে চার বিধানসভায় ৭৭টি বুথে পুননির্বাচনের আর্জি জানানো হয়েছিল তার মধ্যে রয়েছে, ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, বজবজ এবং মগরাহাট পূর্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, ফলতা বিধানসভার ৩২টি বুথে, ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি বুথে, বজবজের ৩টি বুথে এবং মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার ১৩টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। অবশেষে কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক প্রস্তাব দিলেন ফলতার ৩০ বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের জন্য।