ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর ভবানীপুরের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ইভিএম স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপির বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি বাংলার বাসিন্দা নন, গুজরাট থেকে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্ট্রংরুম নিরাপত্তা, পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ এবং গণনার পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেই প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। দলীয় কর্মী, প্রার্থী এবং নির্বাচন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে কোনওরকম সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি জরুরি।
এই সময় স্কুলের বাইরে বিজেপি সমর্থকদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই বিক্ষোভকারীদের মধ্যেই এক ব্যক্তিকে দেখে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁকে গুজরাট থেকে আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বহিরাগত শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে বাইরের লোক এনে অশান্তি তৈরি এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, বিজেপি বহিরাগতদের মাধ্যমে বাংলার নির্বাচনী পরিবেশে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে বিজেপি সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে, তৃণমূল ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। বিজেপির বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে বহিরাগত তকমা দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে শুধুমাত্র জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, বিক্ষোভ এবং তীব্র বাকযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে, তবুও ঘটনাটি রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ইভিএম স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সুরক্ষিত রয়েছে এবং ভোট-পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়নি। ইভিএম নিরাপত্তা, বহিরাগত বিতর্ক এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক অবিশ্বাস মিলিয়ে বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।