নিজস্ব সংবাদদাতা : মায়া মমতা শান্তি নেই শুধু আরো চাই আরো চাই,কি যে হয়ে গেলো যুগ পরিবর্তনে,গলায় আক্ষেপের সুর ৮৬ বছরের প্রীতিকনা মজুমদারের। উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা দেখেছেন টেলিভিশনে। দেখেছেন মানুষকে ভেসে যেতে, ঘরবাড়ি ছাড়া হতে, দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে দৌড়ে যেতে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে। যেমন করে তিনি দাঁড়াতেন বাংলাদেশে (সাবেক পূর্ব পাকিস্থানে) থাকার সময়। সেখানে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
পরাধীন ভারতে জন্ম।এদেশে এসে বাঁশবেড়িয়ায় বসবাস। স্থানীয় বাসুদেবপুরে প্রাথমিক স্কুলে ২৩ বছর চাকরি। তারপর অবসর। স্বামী নেই, নিঃসন্তান বৃদ্ধা একাই থাকেন। পেনশনের টাকা থেকে নিজের খরচ বাঁচিয়ে এক লক্ষ টাকা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।

বৃদ্ধা বলেন, “আমি কোনো রাজনীতি বুঝি না। যারা মানুষের কাজ করে তাদের কথা বলি। দেশ ও দশের কাজই আসল কাজ। মমতা ব্যানার্জীর ত্রাণ তহবিলে আমি এক লাখ টাকা দিলাম। কেউ আমাকে দিতে বলেনি। আমি প্রাইমারি স্কুলে একসময় মাস্টারি করতাম। ২৩ বছর চাকরি করেছি। সেই টাকা থেকে আমি দিলাম। মানুষের কী দুঃখ কী যন্ত্রণা। আমার চোখে জল এসে গেল। আমার খুব দুঃখ হয়েছে এই মানুষগুলোর কী দুরবস্থা। আমি শান্তি পেলা…… ভালোবাসার উপর আর কোনো ধর্ম নেই।”
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, “বয়স হয়েছে কানে কম শোনেন, টিভিতে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় দেখেছেন প্রীতিকনা মজুমদার। তার মন কেঁদেছে দুর্গতদের জন্য। তাদের সাহায্যে মুখ্যমন্ত্রী তান তহবিল এক লক্ষ টাকা দান করার সিদ্ধান্ত নেন।তিনি আমার প্রতিবেশি। আমার কাছে গিয়েছিলেন। টিভিতে দেখে উত্তরবঙ্গের বন্যাগ্রস্থ মানুষদের দেখে সাহায্য করতে চাইলেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এক লক্ষ টাকা দিলেন। কাজ করতেন প্রাইমারি স্কুলে, হেড টিচার ছিলেন। সেই সঞ্চয় থেকে তিনি এই সাহায্য করলেন। আমি আপ্লুত। তাঁর এই টাকা লাগবে দুস্থ মানুষদের জন্য। এই ধরণের মানুষ এখনও আছে, আমরা উদ্বুদ্ধ হলাম।”
