নিজস্ব সংবাদদাতা : নবান্নের গায়েই শিবপুর ষষ্টীতলা। এখানকার বারোয়ারির মঞ্চে সারাবছরই লেগে থাকে উৎসব অনুষ্ঠান। কি হয় না এখানে- পুজো থেকে পিঠেপুলি, রথ থেকে রাখি। ষষ্টীতলা মানেই উৎসবের সরগরম। পুজো যে এখানে মহা উৎসব তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফি বছর এখানে পুজোর পার্বন ঘিরে জমজমাট থাকে। এবছর তার সুবর্ণজয়ন্তী। একশো বছরের এই পুজোর কোণায় কোণায় চমক আর আমেজের সমারোহ।

এবার এই বারোয়ারি পুজোর থিম উদযাপন। বাঙালির সাংস্কৃতিক চালচিত্র নিয়ে জেগে উঠবে মণ্ডপ। ষষ্ঠীতলার আয়োজনে এবার পুজোর মুখ অভিনেতা অপরাজিতা আঢ্য। পুজোর গান করেছেন রূপঙ্কর বাগচি। থিম সং সৌরভ মণি। আবহে সৈকত দেব এবং প্রতিমা শিল্পী – মিঠুন দত্ত৷ তালিকা দেখেই বোঝা যাচ্ছে জাঁকজমক কোন উচ্চতায় পৌঁছুবে।

লোহা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপের কাঠামো। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ শিল্পীরা এসেছেন মণ্ডপ তৈরির কাজে। শিল্পীরা মজে আছেন অষ্টপ্রহর। যত হলে ১০০ বছরের উদযাপন। শুধু আভিজাত্যে নয়, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে এসেছে অভিনবত্ব, উৎকর্ষতা। প্রতিযোগিতাকেও এড়ানো যায় না। ফলে নজর রাখতে হচ্ছে সব দিকে।

এই পুজোর এবারের সবথেকে বড় চমক বিসর্জনের কার্নিভ্যালে। উদ্যোক্তা সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এবং মণীশ দাশগুপ্ত বুক বাজিয়ে বলেছেন, “এমন কার্নিভ্যাল একক উদ্যোগে এর আগে দেখেনি বাংলা। বিসর্জনের হাওড়ার রাস্তায় হাঁটবে ভারতবর্ষ”।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কৃষ্টি-সংস্কৃতির কোলাজ ফুটে উঠবে কার্নিভ্যালে। নাচ-গান, ট্যাবলোয় সাজানো হবে শোভাযাত্রা। যার দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার। মুম্বই, রাজস্থান থেকে আসছেন শিল্পীরা। ষষ্টীতলার ঘরে ঘরে এখন আগমনীর প্রতীক্ষা। সব ঘরেই চলছে শারদীয়ার প্রস্তুতি।
