স্পোর্টস রিপোর্টার, ওঙ্কার বাংলা: হতে পারে নিয়মরক্ষার ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিশ্বকাপের মহড়ার জন্য। যেখানে ফেল করলেন অভিষেক, সূর্যরা। চতুর্থ টি২০তে ভরাডুবি হল ভারতের। নিউজিল্যান্ড জিতল ৫০ রানে। প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ৭ উইকেটে ২১৫ রান। জবাবে ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।
এই ম্যাচে একটাই প্রাপ্তি, শিবম দুবের দুরন্ত চেষ্টা। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান করে ফেলেন দুবে। ২৩ বলে ৬৫ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে যান তিনি। প্রথম বলে এদিন অভিষেক শর্মা আউট হয়ে যেতেই দিশেহারা হয়ে যায় ভারত। সূর্যকুমার যাদব ৮ রানে ফিরে যান। এরপর কিছুটা লড়াইয়ে ফেরান সঞ্জু স্যামসন ও রিঙ্কু সিং। ভারতের ৫৫ রানের মাথায় ২৪ রানে ফিরে যান সঞ্জু। হার্দিক ২ রানের বেশি করতে পারেননি। রিঙ্কু আশা জাগালেও, ৩৯ রানের মাথাতেই ফিরে যান। এরপরই দুবে যেন মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করেন। ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে তৃতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকালেন ৩২ বছর বয়সি ক্রিকেটার। তালিকায় প্রথমে রয়েছেন যুবরাজ সিং। এর পরেই অভিষেক শর্মা। ৭ ছক্কা ৩ চারে ২৩ বলে ৬৫ করেন।
দুবের আউটের সময় ভারতের রান ছিল ৬ উইকেটে ১৪৫। পরের ২২ বলের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ভারত। ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। এর আগে নিউজিল্যান্ডকে শুরুতেই ১০০ রান এনে দেন দুই ওপেনার কনওয়ে ও টিম সেইফার্ট। কনওয়ে ২৩ বলে ৪৪ আর সেইফার্ট ৩৬ বলে ৬২ রান করেন। এরপর ছোট ছোট ইনিংসে ভর করেই ৭ উইকেটে ২১৫ রান তুলে ফেলে নিউজিল্যান্ড। বিশাখাপত্তনমে ভারতের প্রথম একাদশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কেন এক ব্যাটার কম খেলিয়ে এক জন বেশি বোলার খেলানো হল, সেই আলোচনা চলছিল। আরও এক ব্যাটার থাকলে হয়তো ম্যাচ ভারতই জিতত। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হেরে ভারতের অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করেই ছয় ব্যাটার খেলিয়েছি। আমরা পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতে চেয়েছিলাম। নিজেদের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে চেয়েছিলাম।’
নিজের কথা উদাহরণ দিয়েও বুঝিয়েছেন সূর্য। ভারত অধিনায়ক বলেন, “ধরুন, ১৮০-২০০ রান তাড়া করতে নেমে আমাদের শুরুতেই ২-৩ উইকেট পড়ে গেল, তখন দল কেমন খেলবে সেটা দেখতে চেয়েছিলাম। যদি তা না হত, তা হলে অন্য ভাবে খেলতাম।” এই ম্যাচে ২১৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে অভিষেক শর্মা ও সূর্য আউট হন। সঞ্জু স্যামসনও বেশি ক্ষণ থাকেননি। ফলে মিডল অর্ডারের উপর চাপ পড়ে যায়। তবে কি সূর্য বোঝাতে চাইলেন, ইচ্ছা করেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন তাঁরা? সেটা কখনওই সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁর কথা অদ্ভুত শুনিয়েছে।
শ্রেয়সকে কেন খেলানো হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সূর্য। বলেছেন, “বিশ্বকাপের দলে যারা আছে তাদেরই খেলাতে চেয়েছিলাম। নইলে বাকিদেরও সুযোগ দিতাম।’
