বিপ্লব দাশ : মার্কিন প্রেসিডেন্টের চলতি বাকবিতন্ডার প্রভাব এসে পড়ল সংসদের অধিবেশনে। এবং এটা ভবিতব্যই ছিল। “অপারেশন সিঁদুরে”র পর থেকে ট্রাম্পকে নিয়ে শাসক দলের মধ্যে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে যে অস্বস্তি বাড়ছিল এটা বাইরে প্রকাশ না করলেও অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই এর প্রভাব একদিন না একদিন জাতীয় রাজনীতিতে এসে পড়বে এটা অজ্ঞাত ছিল না। কারণ, ভারত-পাক সংঘাতের ঠিক পরে পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাবে গ্লোবাল ট্রেড ওয়ার অর্থৎ বিশ্ববাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে দিলেন তার থেকে যে ভারতের রেহাই নেই এটা না বোঝার ছিল না। সংসদের বাদল অধিবেশনে অপারেশন সিঁদুর বিতর্কের ইস্যু হয়ে ওঠার পর এটা শুধু সময়ের অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো দেখা দিল ভারতের রপ্তানি পণ্যের উপর আমেরিকার ২৫ শতাংশ শুল্ক ও জরিমানা। কারণ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই জানিয়ে দিলেন রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনার ফল এটা। তাকে আরও তাতিয়ে দিল ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্য, “ভারতের অর্থনীতি”। যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এতদিনের ‘দেশের অর্থনৈতিক জাগুরু’র বড়াইকে সরাসরি আঘাত করল।
এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এমনটাই ইংগিত করেছিলেন। ফলে এমনটা যে হতে চলেছে তা জাতীয় রাজনীতিতে আভাস ছিল। নরেন্দ্র মোদী এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ট্রাম্পকে যতই বন্ধু বন্ধু করুন না কেন তিনি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব রাজনীতিতে আমারিকার শঠতা আদৌ অপরিমেয় নয়।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের ভূমিকা কী হয় এখন সেটাই দেখার। কারণ, কোনো বিতর্কে যদি বিদেশ নীতি এসে পড়ে সেখানে বিরোধীদের অনেক দায়িত্বশীল হতে হয়। একাট্টা হতে হয়। ফলে ট্রাম্পের আচরণে বিরোধীরা ঢেকুর তুললেও প্রকাশ্যে মোদীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করাটা বিশ্বের দরবারে অশোভনীয় হবে। তাই জাতীয় রাজনীতিতে রাহুল গান্ধী একে অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও তাঁর দলের অনেক বর্ষীয়ান নেতা কিন্তু বলতে শুরু করেছেন, “নয়াদিল্লি ওয়াশিংটন ডিসির অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না”।
