স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসন বলেছেন, শচীন টেন্ডুলকারের ক্রমাগত গাইডেন্স তাঁকে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। যার জন্য তিনি ২০২৬-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি সেরা খেলোয়ার্ড হতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, “খুব সত্যি বলতে, আমাদের দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রচুর গাইডেন্স এবং পরামর্শ এসেছে। প্রাক্তন ভারতীয় দলের সদস্যরা সত্যিই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁরা আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় গত কয়েক মাস ধরে, শচীন টেন্ডুলকার স্যারের ক্রমাগত পরামর্শ আমাকে উপকৃত করেছে।
সঞ্জু আরও বুলেন, “আমি যখন অস্ট্রেলিয়ায় বাইরে বসে ছিলাম, কোনও খেলা খেলছিলাম না। তাই, আমি ভাবছিলাম, তখন কী ভাবে চলা উচিত। তাই, আমি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তাঁর সঙ্গে আমার প্রচুর কথা হয়। গতকালও, তিনি আমাকে ফোন করে আমার কেমন লাগছে তা জানতে চেয়েছিলেন। আমার মনে হয় তাঁর মতো একজনের কাছ থেকে গাইডেন্স পাওয়া, আমি আর কী চাইতে পারি ? আমার মনে হয় সেই স্পষ্টতা, সেই খেলার প্রস্তুতি, সেই খেলার সচেতনতা, সেই খেলার বোধ, যারা আমাকে জুগিয়েছেন তাঁদের সকলের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
সঞ্জুর বাবা স্যামসন বিশ্বনাথ জানিয়েছেন, ছেলে যাতে সচিন এবং রাহুল দ্রাবিড়ের মতো খেলে, সেই চেষ্টা ছোটবেলা থেকেই সে করে এসেছে। বিশ্বকাপে সঞ্জু নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পেরেছেন দেখে তিনি গর্বিত।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে কোনও খেলা খেলতে পারেননি সঞ্জু। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সুপার এইটের লড়াই থেকে তাকে প্লেয়িং ইলেভেনের জন্য গড়ে তুলতে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য তাঁর অবিস্মরণীয় ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৮৯ রান এবং তারপর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বকাপকে আলোকিত করেন। একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এটি একটি রেকর্ড।
বিশ্বকাপের শেষ তিনটি ম্যাচে সঞ্জু যে ভাবে খেলেছেন তাতে গর্বিত তাঁর বাবা বিশ্বনাথ। তিনি বলেছেন, সঞ্জুর স্বাভাবিক খেলা এই তিনটি ম্যাচেই দেখা গিয়েছে। খোলা মনে শট নিয়েছেন। ছোটবেলায় ঠিক এ ভাবেই নাকি খেলতেন তিনি। মাঝে কয়েক বছরে তাঁর খেলার ধরন বদলে গিয়েছিল। আবার তা ফিরেছে। বিশ্বনাথের কথায়, শেষ তিনটে ইনিংসে ওর জাত চিনিয়ে দিয়েছে। একটাও এমন শট ছিল না, যেখানে বল ওর ব্যাটে ঠিক করে লাগেনি। শট মারার সময় খুব শান্ত, চিন্তামুক্ত দেখা গেছে সঞ্জুকে। প্রতিটা বল খেলেছে খুব স্বাভাবিক ছন্দে।সঞ্জুর বাবা জানিয়েছেন,ছোটবেলায় ঠিক এ ভাবেই খেলত সে। গত কয়েক বছর সে পুরানো ছন্দ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। পরে বাবার বকাবকিতে কাজ হয়েছে। T20-র ম্যাচগুলোতে আবার নিজের অবস্থান বদলে নিতে পেরেছে সঞ্জু।
সামসন ৮০.২৫ গড়ে এবং ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক-রেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, “আসলে স্বপ্নের মতো লাগছে। খুব, খুব খুশি, খুব কৃতজ্ঞ। কথার বাইরে, আবেগের বাইরে। আমি কেবল এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাই এটি কিছুটা অবাস্তব মনে হচ্ছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয়, এটি সব এক থেকে দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল।”
এবার নিশ্চয়ই ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে থেকেও একটিও খেলা খেলতে পারেননি। সেই আক্ষেপ এবার সুদে আসলে মিটিয়ে নিলেন সঞ্জু। সেই প্রসঙ্গে স্যামসন জানিয়েছেন, “আমি কল্পনা কররতাম, স্বপ্ন দেখতাম। আমি কাজ করতে থাকলাম। ঠিক এটাই তখন করতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল আমার কাজ করা উচিত। আমাকে এত পরিশ্রম করতে হবে। এখন মনে হচ্ছে আমি এটাই চেয়েছিলাম।”
স্যামসন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাত্র ৪৬ রান করার পর বিশ্বকাপে পারফর্ম করার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন এবং তার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক পরেই, আমি কার্যত পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভাবছিলাম, ঠিক আছে, আমার স্বপ্ন ভেঙে গেছে, আর আমি আর কী করতে পারি? কিন্তু ঈশ্বরের পরিকল্পনা ভিন্ন ছিল। আমার মনে হয় আমি হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ খেলায় ফিরে এসেছি এবং আমার দেশের জন্য যা করতে পেরেছি তা করেছি। আজ আমি খুব গর্বিত এবং খুব খুশি যে আমি এটি নিয়ে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।
