ওঙ্কার ডেস্ক: সারা ভারত জুড়ে ভাবে বন্ধ করা হল টেলিগ্রাম। প্রথমে সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হলেও তা পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে টেলিগ্রামকে অভিযুক্ত করে বিস্ফোরক দাবি করল কেন্দ্র। জানাল, টেলিগ্রাম এখন নতুন ডার্ক ওয়েবে পরিণত হয়েছে। এবং সেখানে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এমনকী, চাইল্ড পর্ন, জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ডা ছড়াতেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মঞ্চও হয়ে উঠেছে টেলিগ্রাম। এদিন কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ‘টেলিগ্রাম এখন নতুন ডার্ক ওয়েব। অপরাধীরা দ্রুত টেলিগ্রামে এমন সব লিঙ্ক পোস্ট করে দিচ্ছে যেখানে ক্লিক করলে ডার্ক ওয়েবে ঢোকা যায়। প্রশাসনের পক্ষে এই ধরনের গতিবিধি শনাক্ত করা ও অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ নয়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, টেলিগ্রামে পরিচয় গোপন রাখার সুবিধাই একে অপরাধী চক্রের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কেন্দ্রের মতে, ইউজাররা প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে ফোন নম্বর ও টেলিগ্রাম আইডির মতো তথ্য গোপন রাখতে পারেন। ফলে তদন্তকারীদের পক্ষে অ্যাকাউন্টগুলোর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে মোদি সরকারের স্পষ্ট অভিযোগ, মাদক পাচার, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, চাইল্ড পর্নের মতো নানা ভয়ংকর অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতেও এই বিধান ব্যবহার করা হয়। তবে মোদি সরকার বলছে, আইন ও জনস্বার্থের আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ার পর মেডিকেল কলেজে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট’ (নিট) বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর মাঝেই সরকার আগামী রোববার (২১ জুন) নতুন করে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে। এক বিবৃতিতে ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানায়, ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিট-২০২৬ পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে সংগঠিত চক্রগুলো টেলিগ্রাম ব্যবহার করছিল। এ কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।