ওঙ্কার ডেস্ক: রাঁচিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ঝাড়খণ্ড প্রাদেশিক কার্যালয়ে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার নাটকীয় মোড় নেয় তদন্ত। এই মামলার মূল অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। সংঘর্ষে অভিযুক্ত আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সইফ নামে ওই অভিযুক্তকে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করে রাঁচির কোটওয়ালি থানার লক-আপে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে সে কোনওভাবে পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পাওয়ার পরই পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে এবং অভিযুক্তকে ধরতে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পরে মান্দার এলাকায় সইফকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হলে সে এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতির মোকাবিলায় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে অভিযুক্ত আহত হয় এবং তাকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার রাঁচির চুটিয়া থানার অন্তর্গত নিবারণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয়ে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই যুবক কার্যালয় লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করছে। তবে ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি এবং ভবনেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
ঘটনার পর ঝাড়খণ্ডে আরএসএস-এর প্রান্ত সংঘচালক নরসিংহ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে চুটিয়া থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এই হামলা শুধুমাত্র সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানুষের জীবন বিপন্ন করার পাশাপাশি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। সেই কারণেই মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন বা ইউএপিএ-র ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে কার্যালয়ের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ওই কার্যালয়ে নিয়মিতভাবে কর্মী ও পদাধিকারীদের যাতায়াত থাকে। তাই সেখানে স্থায়ী পুলিশ পিকেট বসানোরও আবেদন জানানো হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পিছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, অভিযুক্তদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।