ওঙ্কার ডেস্ক: মণিপুরে জঙ্গি দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের একাধিক জেলায় যৌথ অভিযানে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। পাশাপাশি বেআইনিভাবে নির্মিত ৩৯টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট এবং কৌশলগত ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চুরাচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনা ও অসম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি-র এক জঙ্গি নিহত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ জুন চুরাচাঁদপুর জেলার হেংলেপ উপবিভাগে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইউকেএনএ জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেনা ও অসম রাইফেলসের জওয়ানরা এলাকায় পৌঁছলে জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সংঘর্ষে এক জঙ্গি নিহত হলেও অন্যরা ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের শক্তিশালী বাঙ্কার ও ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযান জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা এবং রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, মণিপুর পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ইম্ফল পশ্চিম ও বিষ্ণুপুর জেলা থেকে কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি) এবং সোশ্যালিস্ট রেভলিউশনারি পার্টি অব কাংলেইপাক (সোরেপা)-র তিন সক্রিয় জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কাংপোকপি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ১১টি সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (এসবিবিএল) ১২-বোর বন্দুক, ২৯৪ রাউন্ড জীবন্ত ১২-বোর কার্তুজ, দুটি গানপাউডারের প্যাকেট, ৩৪টি খালি কার্তুজের খোল এবং ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে। অভিযানের সময় আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের পরিচয় ও ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী কাংপোকপি ও চুরাচাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত ৩৯টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট ও কৌশলগত শিবিরও ধ্বংস করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কাঠামো জঙ্গি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
বর্তমানে মণিপুর জুড়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে জঙ্গি ও সমাজবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের উপত্যকা ও পাহাড়ি অঞ্চল মিলিয়ে মোট ১১৬টি নাকা ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের চলাচলের উপর নজরদারি বাড়ানো যায়। ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অত্যাবশ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে এসকর্ট পরিষেবাও চালু রয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কনভয় সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।
এদিকে, মণিপুর পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারে বিশ্বাস না করার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও বাহিনীগুলি সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।